প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
◷ 00:00:00

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে, সময়সীমা বলা সম্ভব নয়: দীনেশ ত্রিবেদী।

শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ভারতে একটি আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, বিষয়টি একটি সুসংগঠিত আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে এবং এর সঙ্গে আদালতও সম্পৃক্ত। তাই শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভার্সেশন ২০২৬’-এর একটি সেশনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এরই মধ্যে একাধিকবার ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বিষয়টি আইনগত এবং সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে সেই প্রক্রিয়া চলমান এবং আদালতও এর সঙ্গে যুক্ত থাকায় এর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ভারতের বিচারব্যবস্থা নিজস্ব আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিষয়টি দেখছে। একই কারণে বাংলাদেশে আলোচিত ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফিরিয়ে দেওয়ার প্রশ্নেও নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

শেখ হাসিনা কীভাবে ভারতে গিয়েছিলেন—এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, তাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। বাংলাদেশের তৎকালীন পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি ভারতে এসেছিলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ওই সময়ের পরিস্থিতি ছিল আকস্মিক এবং ভারতও এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল না। তখন শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং একজন প্রতিবেশী দেশ হিসেবে সৃষ্ট বাস্তবতা গ্রহণ করাই ভারতের দায়িত্ব ছিল।

তিনি আরও বলেন, সে সময় একটি সামরিক বিমান ভারতে এসেছিল। পরিস্থিতির কারণে ভারতকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। শেখ হাসিনাকে গ্রহণ না করা বা বিমান অবতরণের অনুমতি না দিলে পরিস্থিতি আরও কোথায় গিয়ে দাঁড়াত, তা বলা কঠিন ছিল।

বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি আবারও বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার প্রশ্নটি এখন একটি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়া তার নিজস্ব গতিতে এগোচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। নিজেদের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের রয়েছে। একইভাবে ভারতেরও নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষার অধিকার রয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, সংলাপ, আলোচনা, পরামর্শ ও পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমেই সম্পর্কের সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব।

দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে শুধু লেনদেনের দৃষ্টিতে দেখলে হবে না। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্কের ভিত্তি পারস্পরিক আস্থা ও যোগাযোগ।

বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের ওপর ভারতের আস্থা রয়েছে এবং বাংলাদেশের জনগণও ভারতের নিরাপত্তার বিষয়টি বুঝবেন বলে তিনি আশা করেন।

 

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
📢 আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন
প্রগতি বার্তা
আপনার ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার করুন
হাজারো পাঠকের কাছে পৌঁছে দিন আপনার বিজ্ঞাপন
progatibarta.com

💬 WhatsApp এ যোগাযোগ করুন
সরাসরি যোগাযোগ: ০১৩০৯০৮১৪৯০

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক