প্রগতি বার্তা
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...

এলপিজির বাজারে বেসরকারি খাতের একচ্ছত্র আধিপত্য, বাড়ছে জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি।

বাংলাদেশে এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার ও বাণিজ্যিক সরবরাহব্যবস্থা।

 

এলপিজির বাজারে বেসরকারি খাতের একচ্ছত্র আধিপত্য, বাড়ছে জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট ও পাইপলাইনের গ্যাসের সীমিত প্রাপ্যতার মধ্যে বাংলাদেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। একসময় মূলত গৃহস্থালির রান্নার কাজে ব্যবহৃত এই জ্বালানি এখন হোটেল-রেস্তোরাঁ, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও যানবাহনেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু ব্যবহার ও চাহিদা বাড়লেও দেশের এলপিজি বাজারের সরবরাহব্যবস্থা এখনো প্রধানত আমদানিনির্ভর এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভরশীল।

খাতসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, দেশে বছরে এলপিজির চাহিদা প্রায় ১৭ থেকে ১৮ লাখ মেট্রিক টন। প্রতিবছর গড়ে ১০ শতাংশ হারে চাহিদা বৃদ্ধির তথ্যও উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৫ সাল নাগাদ এ চাহিদা ৪০ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছাতে পারে। তবে এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার, আমদানি সক্ষমতা ও বাজারের সম্প্রসারণের ওপর।

অন্যদিকে, জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশের এলপিজি চাহিদার মাত্র ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ সরকারি খাত থেকে পূরণ হয়। বাকি ৯৮ দশমিক ৬৭ শতাংশের জোগান বেসরকারি খাতনির্ভর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি খাতের সীমিত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানির ওপর নির্ভরতা মিলিয়ে এলপিজি এখন শুধু ভোক্তার জ্বালানি নয়, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাজার ব্যবস্থাপনারও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এলপিজির দাম বৃদ্ধি, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ এবং সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এই বাজারের দুর্বলতাগুলো সামনে এনেছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, চাহিদা বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমদানি ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো, বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা কতটা জোরদার করা যাচ্ছে।

বাংলাদেশে এলপিজির বাজার সম্প্রসারণের পেছনে অন্যতম কারণ পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাসের সীমিত প্রাপ্যতা। নতুন আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকা, বিদ্যমান ব্যবস্থায় সরবরাহের সীমাবদ্ধতা এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জ্বালানির চাহিদা বিকল্প জ্বালানির বাজারকে সম্প্রসারিত করেছে।

এলপিজি সহজে পরিবহন ও সিলিন্ডারে সংরক্ষণ করা যায়। ফলে পাইপলাইনের আওতার বাইরে থাকা এলাকায় রান্নার জ্বালানি হিসেবে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্যও এলপিজি ব্যবহারিক বিকল্প হয়ে উঠেছে।

দ্য ডেইলি স্টারের ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলওএবি) সভাপতির বক্তব্যের বরাতে বলা হয়, দেশের এলপিজি চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ আসে গৃহস্থালি খাত থেকে। শিল্প, বাণিজ্যিক ব্যবহার ও অটোগ্যাস মিলে বাকি চাহিদা তৈরি হয়।

তবে এলপিজির ব্যবহার বাড়লেই জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়ে যায় না। কারণ, প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো এলপিজিও একটি জীবাশ্ম জ্বালানি এবং বাংলাদেশকে এর বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে এক ধরনের জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নতুন নির্ভরতা তৈরি হচ্ছে।

এলপিজি বাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের বড় ব্যবধান। জ্বালানি বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারি খাতের অংশ মাত্র ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বাকি ৯৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে পূরণ হয়।

সরকারি খাতের সীমিত অংশগ্রহণের অর্থ হলো, বাজারে আমদানি ও সরবরাহের বড় অংশ পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি অপারেটরদের ওপর। বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণ সম্ভব হলেও সংকটের সময় সরকার দ্রুত বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারবে কি না, তা নির্ভর করে নিজস্ব আমদানি, সংরক্ষণ ও বিতরণ সক্ষমতার ওপর।

২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে বাজার স্থিতিশীল করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মাধ্যমে এলপিজি আমদানির উদ্যোগের কথা উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি সংস্থাটির নিজস্ব এলপিজি আমদানি, খালাস ও সংরক্ষণের অবকাঠামো সীমিত হওয়ায় এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে অবকাঠামোগত ও পরিচালনাগত প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ।

এখানেই মূল চ্যালেঞ্জ। সরকারি অংশগ্রহণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেই রাতারাতি বাজারের কাঠামো বদলে যাবে না। আমদানির জন্য অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের সঙ্গে চুক্তি, জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস, সংরক্ষণাগার এবং বেসরকারি পরিবেশকদের মাধ্যমে বিতরণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশের এলপিজি বাজারের বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি, জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন, পরিবহন ও বিমা ব্যয় বৃদ্ধি কিংবা আমদানির অর্থায়নে সমস্যা দেখা দিলে দেশের বাজারও প্রভাবিত হতে পারে।

দ্য ডেইলি স্টারের ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের এলপিজির আন্তর্জাতিক মূল্য সাধারণত সৌদি আরামকোর ঘোষিত চুক্তিমূল্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা তাই দেশের আমদানি ব্যয় এবং ভোক্তা পর্যায়ের দামে প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ছাড়া আমদানি করা এলপিজি জাহাজ থেকে খালাস, টার্মিনালে সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহনের মধ্য দিয়ে ভোক্তার কাছে পৌঁছায়। এই প্রতিটি ধাপে ব্যয় ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।

বড় জাহাজে একসঙ্গে বেশি এলপিজি আমদানি এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সক্ষমতা থাকলে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হতে পারে। কিন্তু পর্যাপ্ত টার্মিনাল ও সংরক্ষণাগার না থাকলে আমদানির পরিমাণ বাড়ালেও দ্রুত ও কম খরচে বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে।

অর্থাৎ এলপিজির জ্বালানি নিরাপত্তা শুধু কতটুকু আমদানি করা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে না; বরং আমদানি করা জ্বালানি কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে সংরক্ষণ ও বিতরণ করা যাচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

খাতসংশ্লিষ্টদের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৫ সাল নাগাদ দেশে এলপিজির চাহিদা ৪০ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছাতে পারে। এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে বর্তমানের তুলনায় আমদানি, সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও পরিবহন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রয়োজন হবে।

চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে অবকাঠামো সম্প্রসারণ না হলে সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় দেশের বাজারে সংকটের ঝুঁকি বাড়বে।

এ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গভীর সমুদ্রবন্দরে বড় জাহাজ থেকে এলপিজি খালাসের সুবিধা, আধুনিক সংরক্ষণাগার, বোতলজাতকরণ কারখানা এবং নিরাপদ পরিবহনব্যবস্থায় বিনিয়োগ প্রয়োজন। পাশাপাশি আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের সঙ্গে নির্ভরযোগ্য চুক্তি করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে।

তবে ২০৩৫ সালের চাহিদা সম্পর্কে পূর্বাভাসকে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ পরিসংখ্যান হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। জনসংখ্যা, শিল্পায়ন, জ্বালানির দাম, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জ্বালানির প্রাপ্যতা এবং ভোক্তার আচরণ—সবকিছুই ভবিষ্যৎ চাহিদাকে প্রভাবিত করবে।

এলপিজি বাজারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি কিংবা আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তন খুচরা দামে প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু এসব কারণ দেখিয়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ থাকলে তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে নির্ধারিত দামের তুলনায় বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বাজারে সরকারের হস্তক্ষেপ, বিপিসির মাধ্যমে আমদানি এবং ভোক্তার স্বার্থ রক্ষার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা দরকার। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজার ও সরবরাহব্যবস্থার কারণে প্রকৃত ব্যয় বাড়ছে কি না। দ্বিতীয়ত, সরবরাহে কৃত্রিম সংকট তৈরি, মজুত গোপন রাখা কিংবা অতিরিক্ত মুনাফার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্য নেওয়া হচ্ছে কি না।

এই দুই পরিস্থিতির সমাধান এক নয়। প্রকৃত আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে সরবরাহব্যবস্থা ও ব্যয়ের কাঠামো পর্যালোচনা করতে হবে। অন্যদিকে, বাজারে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে নিয়মিত তদারকি, মূল্যতালিকা যাচাই এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

এলপিজির বাজারে মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। আমদানিকারক, বোতলজাতকারী, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতার মধ্যে পণ্য সরবরাহ এবং ব্যয়ের তথ্য নিয়মিত পর্যালোচনা করা গেলে বাজারের অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করা সহজ হবে।

একই সঙ্গে কোন এলাকায় কতটুকু এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে, আমদানির পরিমাণ কত, মজুতের অবস্থা কী এবং খুচরা পর্যায়ে নির্ধারিত দাম কার্যকর হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে তথ্যভিত্তিক নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

বাজারে একাধিক প্রতিষ্ঠান থাকলেই সব সময় কার্যকর প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হয় না। আমদানি সক্ষমতা, সংরক্ষণ সুবিধা, অর্থায়ন এবং বিতরণ নেটওয়ার্কের মতো বিষয় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই প্রতিযোগিতা কার্যকর রাখতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ, ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং ভোক্তা সুরক্ষার ব্যবস্থা একসঙ্গে জোরদার করতে হবে।

এলপিজি বাজারে সরকারের অংশগ্রহণ বাড়ানো বাজার স্থিতিশীল করার একটি সম্ভাব্য উপায়। সরকারি সংস্থা নিজস্ব উদ্যোগে আমদানি করতে পারলে সংকটের সময় বিকল্প সরবরাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সরকারি অংশগ্রহণ বাড়লেই দাম কমবে বা সরবরাহের সব সমস্যা দূর হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

সরকারি আমদানির ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক মূল্য, পরিবহন ব্যয়, অর্থায়ন, সংরক্ষণ এবং বিতরণের খরচ বিবেচনায় নিতে হবে। কার্যকর ব্যবস্থাপনা না থাকলে সরকারি উদ্যোগও কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে ব্যর্থ হতে পারে।

অন্যদিকে, বেসরকারি খাতের বিদ্যমান বিনিয়োগ ও অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে সরকারি তদারকি বাড়ানোও একটি বিকল্প। সরকারি আমদানি ও বেসরকারি বিতরণের সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে সংকটের সময় সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর জন্য স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া, যুক্তিসংগত মুনাফা, নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়ন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশের এলপিজি বাজার এখন এমন এক পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতা ও বাজার নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন সরাসরি যুক্ত। ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে আমদানি সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষণ অবকাঠামো, বন্দর সুবিধা, পরিবহন এবং বাজার তদারকিতে সমন্বিত পরিকল্পনা দরকার।

একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি খাতের ভূমিকা কী হবে, সংকটের সময় কীভাবে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে এবং নির্ধারিত দামে ভোক্তারা কীভাবে এলপিজি পাবেন—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিগত কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, দেশে এলপিজির চাহিদা বৃদ্ধি জ্বালানি ব্যবস্থার পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। কিন্তু প্রায় পুরো বাজার বেসরকারি খাতনির্ভর এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা বেশি থাকায় ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য শুধু চাহিদা পূরণ নয়, সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা, মূল্য স্থিতিশীলতা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কার্যকর প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করাও জরুরি। এসব ক্ষেত্রে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া না হলে এলপিজির বাড়তি চাহিদা একদিকে যেমন নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করবে, অন্যদিকে তেমনি ভোক্তার ব্যয় ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর চাপও বাড়াতে পারে।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক