থানার ভেতরেই তাণ্ডব! কাঠের বাটামের আঘাতে আহত ৩ পুলিশ, শেষ পর্যন্ত যা ঘটল
জয়পুরহাট প্রতিনিধি: থানার ভেতরে তখন চলছিল পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম। দুর্গাপূজার দায়িত্ব পালনে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। ঠিক সেই সময় কাঠের বাটাম হাতে থানায় প্রবেশ করেন এক যুবক। এরপর পরিচয় ও সেখানে আসার কারণ জানতে চাইতেই শুরু হয় হামলা। আকস্মিক এ ঘটনায় আহত হন তিন পুলিশ সদস্য। পরে ওই যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুরহাটের কালাই থানায়। গ্রেফতার যুবকের নাম আসলাম হোসেন (২৮)। তিনি কালাই উপজেলার থুপসাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কালাই থানায় এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় থানার পুলিশ সদস্যরা দুর্গাপূজার দায়িত্ব পালনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে কাঠের বাটাম হাতে থানায় প্রবেশ করেন আসলাম।
থানার ভেতরে তাঁর উপস্থিতি ও সেখানে আসার কারণ জানতে চান পুলিশ সদস্যরা। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে কাঠের বাটাম দিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।
আহতরা হলেন কনস্টেবল মাহমুদুল হাসান রকি, কনস্টেবল মাসুদ রানা ও উপপরিদর্শক (এসআই) আহসান হাবিব। পরে তাঁদের কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহত একজনের হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে চারটি সেলাই দেওয়ার তথ্যও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
থানার মতো নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থানে ঢুকে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কী কারণে আসলাম সেখানে গিয়েছিলেন, আর পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তাঁর কোনো পূর্ববিরোধ ছিল কি না—তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে। পরে মঙ্গলবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার (২১ অক্টোবর) তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র গুলো থেকে জানানো হয়।
প্রতিবেদনে আসলাম হোসেনের বিরুদ্ধে আগে মাদকদ্রব্য ও জুয়া আইনে একাধিক মামলার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব মামলার তথ্য বর্তমান ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নিজে থেকে প্রমাণ করে না।
থানার ভেতরে ঢুকে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের ওপর এমন হামলার ঘটনায় ঘটনাটির নেপথ্য কারণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে হামলার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশের পরবর্তী তদন্তে ঘটনার কারণ ও অন্যান্য তথ্য আরও স্পষ্ট হতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন