রাজনীতি ডেস্ক:
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল ও ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ১৪ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনীর হোসেনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আহ্বায়ক মো. আমিনুল হক ও সদস্যসচিব মো. মোস্তফা জামানের নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিদ্যমান ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। শিগগিরই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। তবে বিএনপির ওই বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি বিলুপ্ত করার নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
একই দিনে বিএনপির পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও এর অধীন ইউনিটের তিন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃতরা হলেন—শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি-ব্লক ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান শুক্কু।
বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কার্যকলাপ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। তাদের বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তরের দায়িত্বে থাকা মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলেও জানানো হয়।
এ ছাড়া সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা হলেন—মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহসভাপতি সারোয়ার আলম পিয়াস, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, দারুস সালাম থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন দিপু, সদস্যসচিব ওমর নাঈম এবং ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্যসচিব শান্ত রহমান।
একই সাংগঠনিক পদক্ষেপের মধ্যে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের দারুস সালাম থানা ইউনিটের দুই নেতাকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা হলেন—আহ্বায়ক মো. আক্তার হোসেন মামুন ও সদস্যসচিব মো. হাফিজুর রহমান।
এ ছাড়া জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চার নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও দলীয় শৃঙ্খলা ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের কথা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দলীয় বিজ্ঞপ্তিগুলোতে জানানো হয়েছে।
ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর এসব সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এসেছে।
২৫ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির বিজ্ঞপ্তিতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনার কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে যুবদল ও ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংগঠন দুটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে, বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তিগুলোতে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী আচরণের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তার বাইরে অতিরিক্ত কোনো অভিযোগ নিশ্চিতভাবে যুক্ত করা হয়নি।
এদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি কবে এবং কাদের নেতৃত্বে ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে শুধু শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণার কথা বলা হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন