প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
◷ 00:00:00

'উপজেলা নির্বাচনে' পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ, এআই অপপ্রচারে কঠোর— ইসি।

উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ, এআই অপপ্রচারে কঠোর ইসি

 নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন ‘উপজেলা পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন আচরণবিধিতে নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি মিছিল-শোডাউন, নির্বাচনী প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহার এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত নতুন বিধিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। এর মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা ও প্রার্থীদের আচরণে বেশ কিছু নতুন বিধিনিষেধ যুক্ত হয়েছে।

পোস্টার ও মিছিল নিষিদ্ধ

নতুন আচরণবিধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার নিষিদ্ধ করা। কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী এলাকায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না।

এ ছাড়া ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্থাপনা, সেতু, কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী লাগানোর ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।

তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্য মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান, ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোডাউনও নিষিদ্ধ থাকবে।

হেলিকপ্টারেও প্রচার নয়

নির্বাচনী প্রচারণায় হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহার করার সুযোগও রাখা হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এআই ব্যবহারে কড়াকড়ি

নতুন আচরণবিধিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারের সুযোগ রাখা হলেও সেখানে কঠোর নিয়ম মানতে হবে। কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে কেউ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ, অপমানজনক বা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করতে পারবেন না।

বিশেষভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—এমন কোনো কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারও নিষিদ্ধ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাতে হলে কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে আগে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তথ্য দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে। এ ধরনের ডিজিটাল প্রচারণায় ব্যয় হওয়া অর্থ নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে।

মাইক ব্যবহারে সময় ও শব্দসীমা

নির্বাচনী প্রচারণায় মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। দুপুর ১২টার আগে এবং সূর্যাস্তের পর মাইক ব্যবহার করা যাবে না। শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে এবং একই ওয়ার্ডে একজন প্রার্থীর পক্ষে একটির বেশি মাইক ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।

বিলবোর্ড ব্যবহারে নির্দিষ্ট সীমা

পোস্টার নিষিদ্ধ হলেও নির্বাচনী প্রচারণায় বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। একটি বিলবোর্ডের সর্বোচ্চ আকার ১৬ ফুট × ৮ ফুট হতে পারবে। একজন প্রার্থী প্রতি ওয়ার্ডে একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না।

তবে এমন স্থানে বিলবোর্ড স্থাপন করা যাবে না, যাতে জনসাধারণের চলাচল, যানবাহন চলাচল বা পরিবেশের ক্ষতি হয়।

ভোটারকে প্রভাবিত করতে উপহার দেওয়া যাবে না

ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে অর্থ, খাদ্য, পানীয় বা কোনো ধরনের উপহার দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে। পেশিশক্তির ব্যবহার, ধর্মের অপব্যবহার, কুৎসা রটানো কিংবা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক প্রচারণাও করা যাবে না।

স্কুল-কলেজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসসহ নির্দিষ্ট স্থানে নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে। সভা-সমাবেশ আয়োজনের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

সরকারি সুবিধা ব্যবহার নিষিদ্ধ

কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে কেউ নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি যানবাহন, সরকারি প্রচারযন্ত্র বা অন্য কোনো সরকারি সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন না।

সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের ওপরও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থীর পক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

ভোটার স্লিপ বিতরণেও নিয়ম

নতুন বিধিমালায় ভোটার স্লিপ বিতরণের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা রাখা হয়েছে। কোনো ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে ভোটার স্লিপ বিতরণ করা যাবে না।

ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ঠিকানা, প্রতীক ও ভোট দেওয়ার সময়সংক্রান্ত তথ্য থাকতে পারবে। তবে অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম, ছবি বা প্রতীক এমনভাবে ব্যবহার করা যাবে না, যাতে ভোটার বিভ্রান্ত হন।

আচরণবিধি ভাঙলে প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ

নতুন বিধিমালায় নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

নতুন বিধিমালার লক্ষ্য

নির্বাচন কমিশনের নতুন আচরণবিধির মূল লক্ষ্য হলো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।

বিশেষ করে পোস্টার ও মিছিল নিষিদ্ধ করা, সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার বন্ধ করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ঠেকানোর বিধান এবারের উপজেলা নির্বাচনের প্রচারব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা, ২০২৬-এর খসড়াও প্রকাশ করা হয়েছিল।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
📢 আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন
প্রগতি বার্তা
আপনার ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার করুন
হাজারো পাঠকের কাছে পৌঁছে দিন আপনার বিজ্ঞাপন
progatibarta.com

💬 WhatsApp এ যোগাযোগ করুন
সরাসরি যোগাযোগ: ০১৩০৯০৮১৪৯০

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক