ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তের ওপারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফের গুলিতে আহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুল হক (৩৮) ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
নিহত আসাদুল হক পীরগঞ্জ উপজেলার ইদ্রইল গ্রামের বাসিন্দা। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
কী ঘটেছিল
দিনাজপুর ৪২ বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পীরগঞ্জ সীমান্তের চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৩৩৩/এমপির কাছাকাছি ভারতের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত পিলার থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভারতের ভেতরে বাংলাদেশিদের একটি দলকে লক্ষ্য করে বিএসএফের চকশিবানন্দ ক্যাম্পের সদস্যরা গুলি চালান। এতে আসাদুল হক গুলিবিদ্ধ হন।
পরে বিএসএফ সদস্যরা আহত আসাদুলকে উদ্ধার করে ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ এলাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর খবর যেভাবে পেল বিজিবি
দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানিয়েছেন, আসাদুলের মৃত্যুর বিষয়টি ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন। বিএসএফের পক্ষ থেকে তখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়নি।
স্থানীয় বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শাহাজাহান আলীও ভারতীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। পরে তিনি আসাদুলের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি বিজিবিকে জানান।
বিজিবির দাবি, আসাদুলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা
দিনাজপুর ৪২ বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আসাদুল হক চিহ্নিত মাদক চোরাকারবারি ছিলেন। তিনি মানবপাচারের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে বিজিবির কাছে তথ্য রয়েছে। তার বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ বিজিবির বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে; এ বিষয়ে আসাদুলের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে স্পষ্ট নয়।
পতাকা বৈঠক ডেকেছে বিজিবি
ঘটনাটি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করতে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি।
দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানিয়েছেন, ঘটনার বিস্তারিত জানতে এবং বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা করতে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সীমান্তে উত্তেজনা ও নতুন প্রশ্ন
সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশি নাগরিকের গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা, চোরাচালান এবং বিএসএফের গুলিবর্ষণ—সবকিছু নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিজিবির বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি বাংলাদেশের ভেতরে নয়, ভারতের অভ্যন্তরে ঘটেছে। ফলে ঘটনার সঠিক পরিস্থিতি, গুলিবর্ষণের কারণ এবং ওই সময় সেখানে থাকা বাংলাদেশিদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পতাকা বৈঠক ও সংশ্লিষ্ট তদন্তের পর স্পষ্ট হতে পারে।
এদিকে, আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে একই সীমান্তঘটনায় মোস্তাকিম (৩৮) নামে আরও একজন বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন এবং শ্রী উদা চন্দ্র (৩৫) নামে আরেকজনকে বিএসএফ আটক করেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে আসাদুল হকের মৃত্যুর বিষয়ে বিজিবির আগের বিজ্ঞপ্তির তথ্যই নিশ্চিতভাবে পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি নিয়ে বিজিবি-বিএসএফের আনুষ্ঠানিক আলোচনার পর সীমান্তে গুলিবর্ষণের প্রকৃত পরিস্থিতি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন