নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
মাদক, অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে নেত্রকোনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের পৃথক অভিযানে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই শেখ তৌফিকুল আমিনের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল বারহাট্টা উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় অনলাইনে বেটিং বা জুয়া পরিচালনার অভিযোগে মাজহারুল ইসলাম ওরফে সজীব (২৯) ও মিমরুন নাহার তন্বী (২৪) নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা সম্পর্কে মামা-ভাগ্নি।
পুলিশের দাবি, গ্রেফতারের পর তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন তল্লাশি করে অনলাইন জুয়া পরিচালনার আইডি, পাসওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত পাওয়া যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সজীব ২০২২ সালে ‘1xBet’ নামের একটি বেটিং সাইটে সাব-এজেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করার কথা জানিয়েছেন বলে পুলিশ জানায়। পরে ২০২৪ সাল থেকে টেলিগ্রামের মাধ্যমে একজন বিদেশি ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগের পর তিনি মাস্টার এজেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং তার অধীনে একাধিক সাব-এজেন্ট যুক্ত করার তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশের ভাষ্য।
পুলিশ আরও জানায়, ‘1xBet’-এর পাশাপাশি ‘MEGA CASINO WORLD’ ও ‘Coldbet’ নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও জুয়া পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে। অবৈধ লেনদেনের ক্ষেত্রে কয়েকটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের তথ্যও তদন্তে এসেছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতার কৃত, দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দেড় কেজি গাঁজাসহ আরও দুজন গ্রেফতার
একই দিনে মাদকবিরোধী অভিযান চালায় নেত্রকোনা ডিবি পুলিশ। এসআই মো. ইউছুব আলীর নেতৃত্বে ডিবির একটি দল পূর্বধলা উপজেলার হিরনপুর বাজারসংলগ্ন ইসবপুর এলাকায় অভিযান চালায়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি কার ওয়াশ দোকানের সামনে থেকে দেড় কেজি গাঁজাসহ সেতু ভাসফর নীরব (৩২) ও পূজা রানী (২১) নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার কৃত, সেতু ভাসফর নীরব পূর্বধলার ইয়ারং এলাকার স্বপন ভাসফরের ছেলে। আর পূজা রানী ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার কেওয়াটখালী সুইপার কলোনির মৃত স্বপন হরিজনের মেয়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক, অনলাইন জুয়া ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন