প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
00:00:00

বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণশিল্পে বড় বিনিয়োগে আগ্রহী চীনের 'জুলং গ্রুপ'।

বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণশিল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী চীনের জুলং গ্রুপ

 নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণশিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনের জুলং গ্রুপ। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, নৌপথ ও দক্ষ জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক নৌযান ও জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি সেগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠানটি।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে জুলং গ্রুপের চেয়ারম্যান বেন ওয়াং এ আগ্রহের কথা জানান। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশে আধুনিক নৌযান নির্মাণ এবং নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে জুলং গ্রুপের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণ খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নৌযান নির্মাণ, স্থানীয় দক্ষ জনশক্তিকে কাজে লাগানো এবং উৎপাদিত নৌযান বিদেশের বাজারে রপ্তানির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির আগ্রহের কথা জানানো হয়।

জুলং গ্রুপের পরিকল্পনার অন্যতম দিক হলো বাংলাদেশের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে এখানে আধুনিক নৌযান নির্মাণ করা। দেশের সমুদ্রবন্দর, নদীপথ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার কারণে জাহাজ নির্মাণ ও রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় স্থান হিসেবে বিবেচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণশিল্প এরই মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশি বাজারেও প্রবেশ করেছে। চট্টগ্রামের একটি প্রতিষ্ঠান এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ল্যান্ডিং ক্রাফটসহ বিভিন্ন ধরনের জাহাজ রপ্তানি করেছে।

ফলে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ এ খাতে যুক্ত হলে স্থানীয় জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সুযোগ আরও বাড়তে পারে।

জাহাজ নির্মাণ একটি শ্রমনির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর ভারী শিল্প। বড় বিনিয়োগ হলে প্রকৌশলী, নৌযান নির্মাণের কারিগরি কর্মী, ওয়েল্ডার, ডিজাইনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ে দক্ষ জনবলের চাহিদা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে আধুনিক নকশা, উৎপাদন প্রযুক্তি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং জাহাজ নির্মাণের নতুন পদ্ধতি দেশে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এসব সুবিধা বাস্তবে কতটা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে বিনিয়োগের আকার, প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তরের ধরন এবং স্থানীয় শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ওপর।

জুলং গ্রুপের আগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশে নির্মিত নৌযান বিদেশে রপ্তানি করা। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের জাহাজ বিদেশে রপ্তানির নজির রয়েছে।

২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে একসঙ্গে তিনটি ল্যান্ডিং ক্রাফট হস্তান্তর করেছে। আটটি জাহাজের ওই চুক্তির মোট রপ্তানি মূল্য ছিল ৭০ লাখ মার্কিন ডলার।

এ ধরনের রপ্তানি বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণশিল্পের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সক্ষমতার একটি উদাহরণ। নতুন বিনিয়োগ এ সক্ষমতা বাড়াতে পারলে ভবিষ্যতে আরও বড় ও উন্নত ধরনের নৌযান রপ্তানির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জুলং গ্রুপের চেয়ারম্যান বেন ওয়াংয়ের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের বৈঠকে নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন ও আধুনিক নৌযান নির্মাণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেতু বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটেও রাজিব আহসানকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈঠকে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হলেও এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট বিনিয়োগের পরিমাণ, প্রকল্পের স্থান, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচি বা চূড়ান্ত বিনিয়োগ চুক্তির বিস্তারিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

তাই বিষয়টিকে আপাতত জুলং গ্রুপের বিনিয়োগের আগ্রহ হিসেবে দেখা হচ্ছে; চূড়ান্ত বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জাহাজ নির্মাণশিল্পকে সম্ভাবনাময় ভারী শিল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশে তৈরি বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও যাত্রীবাহী জাহাজ বিদেশে রপ্তানির নজির রয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো গেলে এ খাতে একটি সমন্বিত শিল্পভিত্তি তৈরি হতে পারে। এতে শুধু জাহাজ নির্মাণ নয়, ইস্পাত, ইঞ্জিনিয়ারিং, যন্ত্রাংশ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, নকশা ও রক্ষণাবেক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট অনেক শিল্পের বিকাশের সুযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, সহজ অর্থায়ন, বন্দর ও অবকাঠামো সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

জুলং গ্রুপের প্রস্তাবিত আগ্রহ বাস্তবে বিনিয়োগে রূপ নিতে হলে প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত জমি, জেটি ও শিপইয়ার্ড অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সুবিধা, কাঁচামাল সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন হতে পারে।

একই সঙ্গে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জাহাজ নির্মাণ প্রকল্পে বড় মূলধন বিনিয়োগের পাশাপাশি উৎপাদন শেষ করে জাহাজ সরবরাহ করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়।

জুলং গ্রুপের এই আগ্রহ বাস্তবে বিনিয়োগে রূপ নিলে বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণশিল্পে নতুন প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জাহাজ রপ্তানির পরিধি বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে।

তবে বিনিয়োগের প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে চূড়ান্ত প্রকল্প, বিনিয়োগের পরিমাণ, উৎপাদন সক্ষমতা এবং রপ্তানি পরিকল্পনার ওপর। এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা বিস্তারিত সরকারি ঘোষণা এলে বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণশিল্পে জুলং গ্রুপের বিনিয়োগ পরিকল্পনার পরিধি আরও স্পষ্ট হবে।

বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—চীনের এই প্রতিষ্ঠানের আগ্রহকে কীভাবে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দেওয়া যায় এবং সেই বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য প্রতিযোগিতামূলক নৌযান উৎপাদনের সক্ষমতা কতটা বাড়ানো যায়।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
📢 আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন
প্রগতি বার্তা
আপনার ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার করুন
হাজারো পাঠকের কাছে পৌঁছে দিন আপনার বিজ্ঞাপন
progatibarta.com

💬 WhatsApp এ যোগাযোগ করুন
সরাসরি যোগাযোগ: ০১৩০৯০৮১৪৯০

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক