প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
◷ 00:00:00

'অপ্রতিম হত্যার' পর মা-বাবাকে হুমকি, পরবর্তী টার্গেট নিয়ে আশঙ্কা।

অপ্রতিম হত্যার পর মা-বাবাকে হুমকি, পরবর্তী টার্গেট নিয়ে আশঙ্কা

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লায় আলোচিত স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই তার মা-বাবাকে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে হুমকি, গালিগালাজ ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নিহত অপ্রতিমের পরিবারের সদস্যরা।

অপ্রতিমের মা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, যারা তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত, তারা ভবিষ্যতে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও টার্গেট করতে পারে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের প্রকৃত বয়স নিয়েও প্রশ্ন তুলে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে দেওয়া বক্তব্যে নাহিদা বেগম বলেন, অপ্রতিমকে হত্যার সঙ্গে জড়িতরা যদি কিশোর হিসেবে আইনের আওতায় আসে, তাহলে ভবিষ্যতে তারা সংশোধনাগার থেকে বের হয়ে আবারও অপরাধে জড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা তার রয়েছে। তিনি নিজের ও স্বামীর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। সে কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ওই দিন মায়ের ব্যবহৃত আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর বাড়িতে ফেরেনি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তার সঙ্গে মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি।

পুলিশের তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল ফোনের তথ্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়। পরে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ দাবি করে, অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ওই নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় অপ্রতিম বাধা দিলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হলে মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় অভিযুক্তরা। পরে তুহিনের দেখানো মতে তার বাসা থেকে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

অপ্রতিম হত্যা মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), দুই কিশোর এবং সিয়াম (১৯)-কে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অপর দুজনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তবে হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত শেষ করে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অপ্রতিম হত্যার পর তার বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারকে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার পরিবারের দাবি, প্রথমে গ্রামীণফোনের একটি নম্বর থেকে ফোন করা হয়। পরে ওই নম্বরটি বন্ধ বা ব্লক করা হলে এয়ারটেলের আরেকটি নম্বর থেকে একাধিকবার কল আসে।

পরে নম্বরগুলোতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। ট্রু কলারে নম্বর দুটি যথাক্রমে ‘রাসেল স্টোর’ ও ‘মোহাম্মদ আলি’ নামে সংরক্ষিত দেখা গেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে এসব নামের সঙ্গে হুমকিদাতাদের প্রকৃত পরিচয়ের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার কথা রয়েছে।

অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার জানিয়েছেন, বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন আসায় তাদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করার কথা জানিয়েছেন এবং বিষয়টি গোয়েন্দা পুলিশকেও জানানোর কথা বলেছেন।

অন্যদিকে, বিভিন্ন নম্বর থেকে হয়রানি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে তিনি সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলেও পৃথক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নিরাপত্তার শঙ্কায় অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগম তার মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন।

অপ্রতিম হত্যার নেপথ্যে কী কারণ ছিল—এ প্রশ্নের পাশাপাশি তার মা নাহিদা বেগমের অতীতের মাদকবিরোধী অবস্থানের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

নাহিদা বেগমের দাবি, তিনি কুমিল্লার কোটবাড়ী ও সালমানপুর এলাকার মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন সোচ্চার ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে মাদকবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন। তার আশঙ্কা, এ কারণে তার পরিবারকে কেউ টার্গেট করে থাকতে পারে। তবে অপ্রতিম হত্যার সঙ্গে তার এই অবস্থানের কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটি এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।

এর আগে নাহিদা বেগমের সহকর্মী অধ্যাপক কামরুন নাহারও জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে অতীতের কোনো ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন বলে নাহিদা মনে করেন। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় কয়েকজন কিশোর অপরাধীকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনা এবং অপ্রতিম হত্যার মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। শুরুতে সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই সাইফুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করছিলেন। এখন থেকে মামলাটির তদন্ত করবেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মামলার নথিপত্র পাওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের দায়িত্ব নেবেন এবং তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে যেসব আশঙ্কা রয়েছে, সেগুলোও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

অপ্রতিম হত্যার প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো পূর্বশত্রুতা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন পুলিশের তদন্তেই নির্ভর করছে। একই সঙ্গে হত্যার পর অপ্রতিমের পরিবারকে দেওয়া কথিত হুমকির উৎস ও এর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
📢 আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন
প্রগতি বার্তা
আপনার ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার করুন
হাজারো পাঠকের কাছে পৌঁছে দিন আপনার বিজ্ঞাপন
progatibarta.com

💬 WhatsApp এ যোগাযোগ করুন
সরাসরি যোগাযোগ: ০১৩০৯০৮১৪৯০

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক