ডিজিএফআইয়ের জেআইসির ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন বিচারপতি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল
ডেস্ক রিপোর্ট 
 ঢাকা সেনানিবাসে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সদর দপ্তরের পেছনে থাকা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি), যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত, পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন বিচারপতি।

গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে চলমান মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে ২১ জুলাই ২০২৬ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেআইসি, র‍্যাব-১-এর টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) এবং ডিবির গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের অনুমতি দেন।

ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার-এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ কার্যক্রমে অংশ নেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে বলেন, বিগত সরকারের সময়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের জেআইসি, টিএফআইসহ বিভিন্ন গোপন স্থানে আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে। মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের স্বার্থে এসব স্থান সরেজমিনে পরিদর্শনের প্রয়োজন রয়েছে বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

জেআইসিকে কেন্দ্র করে গুম, বেআইনি আটক ও নির্যাতনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৃথক মামলা চলছে। ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ জেআইসিতে ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২৬ জনকে বেআইনিভাবে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর সাবেক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকী এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কয়েকজন মহাপরিচালকসহ কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।

জেআইসি সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের বক্তব্যও ট্রাইব্যুনালে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে হুমাম কাদের চৌধুরী তাঁর আটক থাকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন এবং জেআইসির একটি কক্ষের দেয়ালে আগের বন্দিদের লেখা থাকার কথা জানান।

তবে জেআইসিতে আটক ব্যক্তিদের প্রত্যেকের বিষয়ে একই ধরনের দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আজমির আইনজীবী ট্রাইব্যুনালে দাবি করেন, তাঁকে জেআইসির কথিত ‘আয়নাঘরে’ নয়, আলাদা একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে রাখা হয়েছিল। প্রসিকিউশন ওই দাবির প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আপত্তি জানায়।

ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সরেজমিনে জেআইসি পরিদর্শনের বিষয়টি তাই চলমান মামলার প্রমাণ, স্থান ও অভিযোগগুলো বিচারিকভাবে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ