ডেস্ক রিপোর্টঃ সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে গোলাম মুক্তাদীরের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান। তিনি জানান, গোলাম মুক্তাদীর মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, একই মামলায় রোববার বিকেলে রায়গঞ্জের ধানগড়া এলাকা থেকে আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে থানা-পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
গত শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজার এলাকায় সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর আগে সেখানে রায়গঞ্জে সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) স্থাপনের স্থান নির্ধারণ নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে বের হওয়ার সময় সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে গাড়ির পেছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সংসদ সদস্য আয়নুল হক শারীরিকভাবে আহত হননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনার রাতেই রায়গঞ্জ থানায় মামলা করা হয়। চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি শামীমুল হাসান খন্দকার বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গোলাম মুক্তাদীর ওই মামলার ৮ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলো।
মামলার বাদী শামীমুল হাসান খন্দকার জানিয়েছেন, ঘটনার সময় অনেক মানুষ সেখানে ছিলেন। তিনি বলেন, দলের নেতাদের পরামর্শ অনুযায়ী মামলায় আসামিদের নাম দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও তিনি চান।
হামলার পর সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হক জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ করেন। তাঁর সঙ্গে থাকা একজনের ফেসবুক লাইভেও এ অভিযোগের কথা উঠে আসে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে জামায়াত ও এনসিপি। জামায়াতের পক্ষ থেকে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম অভিযোগটিকে মিথ্যা দাবি করে হামলার নিন্দা জানান।
গোলাম মুক্তাদীরকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় আসামি করার অভিযোগ করা হয়েছে।
গোলাম মুক্তাদীরের বাবা মোশাররফ হোসেন দাবি করেন, ঘটনার সময় তাঁর ছেলে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং হামলা বা ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন না। স্থানীয় এক সাংবাদিকও দাবি করেছেন, গোলাম মুক্তাদীর ঘটনার সময় সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন এবং উত্তেজিত লোকজন সংসদ সদস্যের দিকে এগিয়ে গেলে তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
ওই সাংবাদিক আরও দাবি করেন, কয়েক মাস আগে রায়গঞ্জের শিমলার খন্দকার এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে মামলার বাদী শামীমুল হাসান খন্দকারের সঙ্গে গোলাম মুক্তাদীরের বিরোধ হয়েছিল। সেই বিরোধের জেরেই তাঁকে মামলায় আসামি করা হতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে এই বক্তব্য সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের দাবি; এর স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
অন্যদিকে মামলার বাদী শামীমুল হাসান খন্দকার পূর্ববিরোধের কারণে গোলাম মুক্তাদীরকে আসামি করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, দলের নেতারা যাঁদের নাম দিতে বলেছেন, তাঁদের নামই মামলায় দেওয়া হয়েছে।
গোলাম মুক্তাদীরকে ফাঁসানোর অভিযোগের বিষয়ে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান বলেছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।
পুলিশ জানিয়েছে, এমপির গাড়িতে হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার আসামিদের সোমবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত গোলাম মুক্তাদীর ও আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় আরও আসামি থাকায় তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও তদন্ত চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গোলাম মুক্তাদীর হামলায় জড়িত ছিলেন কি না, নাকি তিনি ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহের জন্য উপস্থিত ছিলেন—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন