আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে পেন্টাগন। এ লক্ষ্যে ‘প্যাট্রিয়ট’ (Patriot) এবং ‘থাড’ (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ উৎপাদন বাড়াতে প্রতিরক্ষা শিল্পের দুই শীর্ষ প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন ও নর্থরপ গ্রুম্যানের সঙ্গে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ।
সোমবার (৩ আগস্ট) প্রকাশিত পেন্টাগনের ঘোষণায় বলা হয়, নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় সলিড রকেট মোটর, ইগনিশন সেফটি ডিভাইস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। এর উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ভাণ্ডার দ্রুত পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিল্প সক্ষমতা জোরদার করা।
পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন কাঠামোর আওতায় প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় তিনগুণ এবং থাড ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় চারগুণ পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করতে একাধিক উপাদান নির্মাতাকে যুক্ত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে উৎপাদনে কোনো ধরনের বিলম্ব না হয়।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনকে দীর্ঘদিন ধরে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের থাড ও প্যাট্রিয়ট ব্যবহারের ফলে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত দ্রুত কমে এসেছে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ভবিষ্যৎ সংঘাতের জন্য নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুনর্গঠন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা মূলত বিমান, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও স্বল্প থেকে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে থাড ব্যবস্থা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ভেতরে ও বাইরে স্বল্প, মাঝারি এবং মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসে সক্ষম। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এই দুটি প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
চুক্তির আওতায় শুধু ক্ষেপণাস্ত্র নয়, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ উৎপাদনের জন্য নতুন উৎপাদন লাইন, উন্নত প্রযুক্তি এবং শিল্প অবকাঠামোতেও বিনিয়োগ করা হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করা এবং মিত্র দেশগুলোর চাহিদা পূরণের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে পেন্টাগন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কারণে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশ্বিক চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সেই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন বিনিয়োগ শুধু নিজেদের সামরিক প্রস্তুতিই নয়, বরং মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

0 মন্তব্যসমূহ