আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। একই ঘটনায় এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজ চললেও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় নিখোঁজদের সন্ধান ও মরদেহ উদ্ধারে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন উদ্ধারকারীরা।
বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের উত্তরাঞ্চলে চীন সীমান্তবর্তী রসুওয়া এলাকায় ভয়াবহ এই দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। হিমবাহের বরফ ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে পড়ার পর লেন্দে খোলায় আকস্মিক প্রবল পানিপ্রবাহ সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যে পানি, কাদা ও পাথরের স্রোত আশপাশের জনপদ ও অবকাঠামোর ওপর আছড়ে পড়ে।
প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় যান চলাচল ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি নদীগুলোতে নতুন করে পানি বাড়ার আশঙ্কায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
নেপাল পুলিশের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪৬৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। নেপালে ৯৭৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অন্যদিকে তিব্বতের অংশেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক শত মানুষ। দুই অঞ্চল মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা ১ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক, ট্রেকার, শ্রমিক ও তীর্থযাত্রীও রয়েছেন। হিমালয়ের পবিত্র কৈলাস পর্বতের দিকে যাওয়া অনেক তীর্থযাত্রী এবং পর্যটকের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে দুর্যোগের পর উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচে আটকে থাকা মানুষ ও মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ভূমিধসের কারণে তৈরি একটি হ্রদ উপচে পড়ায় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কিছু এলাকায় উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়েছে। নতুন করে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটির কারণ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আশঙ্কা তৈরি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-সহ বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে হিমবাহের একটি অংশ ধসে পড়া থেকে এই ভয়াবহ ধস ও পানিপ্রবাহের সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রবল পানির সঙ্গে বরফ, পাথর ও কাদার বিশাল স্রোত নিচের দিকে নেমে এসে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে নেপাল ও চীন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দুর্গম ভূখণ্ড, ধ্বংসপ্রাপ্ত সড়ক ও সেতু এবং নতুন করে বন্যার আশঙ্কার কারণে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সীমান্তবর্তী নদী ও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন