প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
00:00:00

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান, ভাঙল সেতু-ঘরবাড়ি; নিহত ৯৫।

: নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানে ভেঙে যাওয়া সেতু ও ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

তিব্বত সীমান্তবর্তী উত্তর নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, সেতু, সড়ক, বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও যানবাহন ভেসে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশী নদীসংলগ্ন এলাকা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে তিব্বতের দিক থেকে আকস্মিক বিপুল জল ও পাথর-বর্জ্য নেমে এসে ভোটেকোশী নদীর পানি দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই নদীর তীরবর্তী তিমুরে বাজার ও সীমান্তবর্তী কাস্টমস এলাকা ভয়াবহ স্রোতে প্লাবিত হয়। ভিডিও ফুটেজে সেতু, ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা পানির তোড়ে ভেসে যেতে দেখা গেছে।

সর্বশেষ পাওয়া খবরে, নেপালে মৃতের সংখ্যা অন্তত ৯৫ জন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এছাড়া কয়েকশ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে পর্যটক, শ্রমিক, নিরাপত্তাকর্মীসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিব্বত-নেপাল সীমান্তের উঁচু পার্বত্য এলাকায় ভূমিধস বা হিমবাহের একটি বড় অংশ ধসে পড়ার কারণে নদীতে বিপুল পরিমাণ পানি, বরফ, পাথর ও কাদা নেমে আসে। এর পেছনে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের সম্ভাব্য প্রভাবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপগ্রহচিত্রে প্রায় ৫,২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের বড় অংশ ভেঙে নিচের দিকে নেমে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এতে নদীর পানির উচ্চতা খুব অল্প সময়ের মধ্যে কয়েক মিটার বেড়ে যায় এবং ভয়াবহ স্রোত সৃষ্টি হয়। তবে বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে।

বন্যার স্রোতে রাসুয়া জেলার তিমুরে ও স্যাফ্রুবেসি এলাকার বহু ঘরবাড়ি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি সেতু ও সড়ক ধ্বংস হওয়ায় দুর্গত এলাকায় যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিমুরে সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী নেপালের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপাল সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ ও পুলিশ বাহিনী উদ্ধার অভিযানে নেমেছে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমেও দুর্গত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তবে পানির উচ্চতা ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর কারণে অনেক এলাকায় হেলিকপ্টার নামানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

নেপালের বিভিন্ন নদীতীরবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে নদীর পানি নিচের দিকে প্রবাহিত হওয়ায় ত্রিশূলী নদী অববাহিকা ও ভারতের বিহার রাজ্যের গণ্ডক অববাহিকাতেও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।

পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরির কাজও চলছে।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
📢 আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন
প্রগতি বার্তা
আপনার ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার করুন
হাজারো পাঠকের কাছে পৌঁছে দিন আপনার বিজ্ঞাপন
progatibarta.com

💬 WhatsApp এ যোগাযোগ করুন
সরাসরি যোগাযোগ: ০১৩০৯০৮১৪৯০

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক