নিজস্ব প্রতিবেদক: মাগুরার বহুল আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায় ঘোষণা পিছিয়ে আগামী ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন এ দিন ধার্য করেন। এর আগে শুনানি শেষে মঙ্গলবার রায়ের দিন নির্ধারিত ছিল।
মঙ্গলবার আদালতের কার্যক্রমের শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক সময় আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি করেছেন এবং তিনি দেশের বাইরে থাকায় সময় চাওয়া হয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়। পরে হাইকোর্ট সময় আবেদন মঞ্জুর করে ৩১ আগস্ট রায়ের নতুন দিন ধার্য করেন।
মামলায় আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে শুনানি করেন হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেকসহ সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তারা।
২০২৫ সালের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও গুরুতর নির্যাতনের শিকার হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং এরপর ফরিদপুরে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ ২০২৫ শিশুটির মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আছিয়ার মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মামলায় ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২৭ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর যুক্তিতর্ক শেষে মাত্র ১৩ কার্যদিবসে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়।
২০২৫ সালের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
মামলার অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীবের ছোট ভাই এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়।
বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ায় আইন অনুযায়ী মামলার নথি মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ২০২৫ সালের ২১ মে মামলার নথি উচ্চ আদালতে পৌঁছায়। পরে পেপারবুক প্রস্তুত করে মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টে আসে।
এরপর প্রধান আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়। গত ১১ আগস্ট ২০২৬ থেকে শুনানি শুরু হওয়ার পর শুনানি শেষে রায়ের জন্য ২৫ আগস্ট দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের কারণে রায় ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছে। এখন আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৬ মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য নতুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
হাইকোর্টের ওই রায়ের মাধ্যমে নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে কি না, নাকি দণ্ডের বিষয়ে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত আসবে—তা জানা যাবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন