ডেস্ক রিপোর্টঃ চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য সেবাদানকারীদের জন্য সম্মানী ভাতা কর্মসূচি অব্যাহত রাখছে সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন উপকারভোগীকে সম্মানী ভাতা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
তিনি বলেন, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিভিন্ন উপাসনালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত সেবাদানকারীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দেশের মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মের উপাসনালয়ে দায়িত্ব পালনকারী যোগ্য ব্যক্তিরাও এ কর্মসূচির আওতায় সম্মানী ভাতা পাবেন।
মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার সব ধর্মের মানুষের প্রতি সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন উপাসনালয়ের সেবাদানকারীদের জন্য সম্মানী ভাতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পর্যায়ক্রমে তাদের ব্যাংক হিসাব বা নির্ধারিত আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্মানী ভাতা বিতরণ করা হবে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ের সেবাদানকারীদের জন্য সম্মানী ভাতা কর্মসূচি পরিচালিত হয়ে আসছে। এর লক্ষ্য হলো স্বল্প আয়ের ধর্মীয় সেবাদানকারীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা।
সরকার আশা করছে, এ কর্মসূচির মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত বিপুল সংখ্যক সেবাদানকারী আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন এবং সমাজে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
উল্লেখ্য, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবাদানকারীদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদান করা হয়ে থাকে। চলতি অর্থবছরে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জনকে এ সুবিধার আওতায় আনার ঘোষণা সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

0 মন্তব্যসমূহ