আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বিশ্ববাজারে টানা তিন সেশনের ঊর্ধ্বগতির পর স্বর্ণের দামে পতন দেখা দিয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম কমেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার নীতির সম্ভাব্য দিকনির্দেশনার দিকে নজর রাখছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার স্বর্ণের স্পট দাম একপর্যায়ে ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি ট্রয় আউন্স ৪ হাজার ৬১৬ দশমিক ৬২ ডলারে নেমে আসে। এর আগে মঙ্গলবার দাম তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দামও ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৭২ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়ায়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির পর বাজারে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি করেছে। পাশাপাশি বাজারের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের জুলাই মাসের পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেনডিচারস বা PCE মূল্যসূচকের দিকে।
PCE মূল্যসূচক ফেডারেল রিজার্ভের মূল্যস্ফীতি পরিমাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এর তথ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে এবং তা ভবিষ্যতে ফেডের সুদহার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বর্ণ কোনো সুদ বা লভ্যাংশ দেয় না। ফলে সুদহার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীদের কাছে সুদ-আয়কারী সম্পদ তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। বিপরীতে সুদহার কমার সম্ভাবনা বাড়লে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বাড়তে পারে।
সাম্প্রতিক নরম মার্কিন মূল্যস্ফীতি ও উৎপাদক মূল্যসংক্রান্ত তথ্যের পর সেপ্টেম্বরে ফেডের সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমেছে। তবে বাজার এখনো ফেডের পরবর্তী নীতিগত অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে।
পতনের পরও বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় বেশ উঁচু অবস্থানে রয়েছে। মঙ্গলবার স্পট গোল্ড তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের বন্ড পুনঃক্রয় পরিকল্পনার পরও স্বর্ণের বাজারে শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়।
আরেকটি বাজার প্রতিবেদনে বুধবার স্পট গোল্ডকে প্রায় ৪ হাজার ৬৩২ দশমিক ৬৫ ডলারের কাছাকাছি লেনদেন হতে দেখা যায়, যা তিন মাসের সর্বোচ্চের কাছাকাছি অবস্থান নির্দেশ করে।
স্বর্ণের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য, ফেডের সুদহার নীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ওপর। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে সুদহার কমানোর প্রত্যাশা বাড়তে পারে, যা স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বেশি থাকলে সুদহার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখার সম্ভাবনা বাড়বে, যা স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
এদিকে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, ডলারের গতিপথ এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের প্রতি চাহিদাও স্বর্ণের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। চীনের হংকং হয়ে স্বর্ণ আমদানিও জুলাইয়ে ১১ শতাংশ বেড়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে, যা এশিয়ায় বিনিয়োগ চাহিদার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন