নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রগতিবার্তা
কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) তিন দিন বন্ধ থাকার পর আবারও জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে টার্মিনালটি পুনরায় চালু হয়। এতে জাতীয় গ্রিডে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, টার্মিনালটি চালুর পর প্রাথমিকভাবে ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছিল। নতুন একটি এলএনজি কার্গো নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগে মহেশখালীতে পৌঁছানোর ফলে দ্রুত সরবরাহ পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়েছে।
৬ ঘণ্টায় আমদানি করা গ্যাস বেড়েছে ১০৬ মিলিয়ন ঘনফুট
বিডিনিউজ২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে জাতীয় গ্রিডে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ ১০৬ মিলিয়ন ঘনফুট বেড়েছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য বলছে, দুপুর ১২টায় দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ ছিল প্রায় ৫৮১ মিলিয়ন ঘনফুট। সন্ধ্যা ৬টায় তা বেড়ে প্রায় ৬৮৭ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছায়—অর্থাৎ প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি।
দুই টার্মিনাল থেকে প্রায় ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট
বর্তমানে মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে মোট প্রায় ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে। এর মধ্যে সামিটের টার্মিনাল থেকে প্রায় ৫৮০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ হচ্ছে। এক্সিলারেট চালুর পরই আমদানি করা গ্যাসের মোট সরবরাহ এই পর্যায়ে পৌঁছায়।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, নতুন কার্গোর এলএনজি পুরোপুরি ব্যবস্থায় যুক্ত হলে শনিবার মধ্যরাতের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে আরও প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হতে পারে।
এলএনজি কার্গো এক দিন আগেই পৌঁছায়
নতুন এলএনজি কার্গোটি ২৩ আগস্ট, রোববার পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই শনিবার মহেশখালীতে পৌঁছে যায়। এর ফলে টার্মিনালে থাকা অবশিষ্ট এলএনজি ব্যবহার করে দুপুর থেকেই গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হয়।
বিডিনিউজ২৪ জানিয়েছে, নতুন কার্গোটি শনিবার দুপুরের দিকে টার্মিনালে পৌঁছালেও সন্ধ্যা পর্যন্ত সেটি আনলোড শুরু হয়নি। রাতের দিকে আনলোডিং শুরু হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
১৯ আগস্ট বন্ধ হয়েছিল সরবরাহ
এর আগে গত ১৯ আগস্ট টার্মিনালে থাকা সরবরাহযোগ্য এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় এক্সিলারেটের এফএসআরইউ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে দেশে চলমান গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়।
এরও আগে ২১ জুলাই মহেশখালীতে এলএনজি স্থানান্তরের সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বৈদ্যুতিক কেবলের ক্ষতির কারণে টার্মিনালটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ৬ আগস্ট আংশিকভাবে পুনরায় চালু হয়।
পরে টার্মিনালটি প্রায় ২৫ দিন বন্ধ থাকার পর আংশিক সরবরাহ শুরু করলেও মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় আবার বন্ধ হয়ে যায়।
দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২৩০ কোটি ঘনফুট
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার এক্সিলারেটের টার্মিনাল চালুর পর দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট বা ২৩০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে।
তবে গ্যাসের চাহিদার তুলনায় এই সরবরাহ এখনো অনেক কম। বিডিনিউজ২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ঘনফুট, অর্থাৎ ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সন্ধ্যার হিসাবে সরবরাহ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ঘনফুট। ফলে ঘাটতি ছিল প্রায় ১ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ঘনফুট বা প্রায় ১৪৯ কোটি ঘনফুট।
অর্থাৎ এক্সিলারেটের টার্মিনাল চালু হওয়ায় সরবরাহে তাৎক্ষণিক উন্নতি হলেও দেশের গ্যাস সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
বিদ্যুৎ ও শিল্পে কিছুটা স্বস্তির আশা
গ্যাসের ঘাটতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতসহ বিভিন্ন খাতে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। এক্সিলারেটের টার্মিনাল পুনরায় চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের পরিমাণ বাড়বে এবং এতে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরতে আরও সময় লাগতে পারে। নিয়মিত এলএনজি কার্গো সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো না গেলে দীর্ঘমেয়াদি সংকট পুরোপুরি দূর করা কঠিন হবে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, গ্যাস সরবরাহকে নির্ভরযোগ্য পর্যায়ে রাখতে আরও এলএনজি কার্গো আনার জন্য কাজ চলছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন