স্পোর্টস ডেসঃ পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয়বারের মতো টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশের কৃতিত্ব দেখিয়ে আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের মে মাসে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের সপ্তম স্থানে উঠে আসে। এটি ছিল টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা র্যাঙ্কিং।
সিলেটে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে এই ঐতিহাসিক অর্জন করে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দল। এর আগে মিরপুরে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ ১০৪ রানের জয় পেয়েছিল। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় টাইগাররা।
আইসিসির হালনাগাদ র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, সিরিজ শেষে বাংলাদেশ দুই ধাপ এগিয়ে নবম থেকে সপ্তম স্থানে উঠে আসে। বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট দাঁড়ায় ৭৮। অন্যদিকে পাকিস্তান দুই ধাপ পিছিয়ে অষ্টম স্থানে নেমে যায়, তাদের রেটিং হয় ৭৫। শ্রীলঙ্কা ষষ্ঠ, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ নেমে যায় নবম স্থানে।
বাংলাদেশ ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় র্যাঙ্কিংয়ের নিচের দিকে অবস্থান করেছে। ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো অষ্টম স্থানে ওঠা ছিল আগের সেরা সাফল্য। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সেই রেকর্ড ভেঙে সপ্তম স্থানে উঠে নতুন ইতিহাস গড়ে টাইগাররা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। বোলিং বিভাগে দারুণ ছন্দে ছিলেন তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও শরিফুল ইসলাম। বিশেষ করে সিলেট টেস্টের শেষ ইনিংসে তাইজুলের ৬ উইকেট বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখে।
এই সাফল্যের ফলে শুধু টেস্ট র্যাঙ্কিং নয়, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) পয়েন্ট তালিকাতেও উন্নতি হয় বাংলাদেশের। সিরিজ শেষে টাইগাররা পঞ্চম স্থানে উঠে আসে এবং ভারত ও ইংল্যান্ডের মতো দলকে পিছনে ফেলে দেয়।
বাংলাদেশের সপ্তম স্থানে ওঠা ছিল ঐতিহাসিক অর্জন। তবে পরবর্তী সিরিজগুলোর ফলাফলের কারণে বর্তমানে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে। তবুও পাকিস্তানকে টানা দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এবং প্রথমবারের মতো সপ্তম স্থানে ওঠা বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন