তুরস্কে হঠাৎ সৃষ্টি হচ্ছে ভয়ংকর সিংকহোল, আতঙ্কে হাজারো মানুষ।

তুরষ্কে সিংক হোল

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  তুরস্কের মধ্যাঞ্চলে একের পর এক বিশাল সিংকহোল (ভূমিধসে সৃষ্ট গভীর গর্ত) তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে। বিশেষ করে দেশটির কোনিয়া (Konya) অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শত শত সিংকহোলের সৃষ্টি স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক এবং বিশেষজ্ঞদের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনকে এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, কোনিয়া অঞ্চলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০০টি সিংকহোল শনাক্ত করা হয়েছে। অনেক গর্তের প্রস্থ ৫০ মিটার এবং গভীরতা ৪০ মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। এসব গর্ত হঠাৎ করেই তৈরি হওয়ায় কৃষিজমি, সড়ক এবং বসতবাড়ি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনেক সময় বিকট শব্দের পর মুহূর্তের মধ্যেই মাটি ধসে বিশাল গর্ত তৈরি হচ্ছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে স্থায়ী ভীতি তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে তাদের বসতবাড়িও এমন গর্তের মধ্যে তলিয়ে যেতে পারে।

ভূতত্ত্ববিদদের মতে, কোনিয়া অঞ্চলের মাটির নিচে চুনাপাথরের স্তর রয়েছে। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে মাটির নিচে ফাঁপা জায়গা তৈরি হয়। পরে সেই অংশের ওপরের মাটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে সৃষ্টি হয় সিংকহোল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি খরা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, গত কয়েক বছরে তুরস্কের মধ্য আনাতোলিয়া অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং পানির সংকট দ্রুত বেড়েছে। কৃষিকাজ চালিয়ে নিতে আগের তুলনায় অনেক গভীর থেকে পানি তুলতে হচ্ছে। এর ফলে ভূগর্ভস্থ স্তরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে নতুন নতুন সিংকহোল তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল চিহ্নিত করা, ভূমির নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি কৃষকদের ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

পরিবেশ ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে তুরস্কের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা সিংকহোলের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, ভূগর্ভস্থ পানির নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন