দুর্নীতি ও চাকরিতে অবহেলা করলে সরাসরি চাকরিচ্যুতি: কঠোর বার্তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর।

সাস্থ্যমন্ত্রী
প্রগতি ডেস্ক
 স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি, ঘুষ, অনিয়ম এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবায় দুর্নীতি বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুধু বদলি করা হবে না, প্রয়োজনে সরাসরি চাকরিচ্যুত করা হবে।

শনিবার নরসিংদী শিশু একাডেমি মিলনায়তনে নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির ৩১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

মন্ত্রী বলেন, "যেখানে অবহেলা ও দুর্নীতি, সেখানেই চাকরিচ্যুতি। আমি ট্রান্সফার বা বদলিতে বিশ্বাস করি না। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সবাইকে সততা, জবাবদিহিতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দুর্নীতি ও ঘুষের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।"

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যখাতে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সেবার মানোন্নয়ন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা হবে। রোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত হাসপাতালগুলোতে সেবা নিতে এসে যেন কোনো মানুষ হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভায় স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি এবং ডায়াবেটিস প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।

স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সরকারের এই কঠোর বার্তাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে তারা মনে করেন, ঘোষণার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে স্বাস্থ্যসেবার প্রতি জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন