৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্কের প্রস্তুতি, ফের বাণিজ্যযুদ্ধের পথে ট্রাম্প।

নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষনা ট্রাম্পের

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আবারও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে আমদানি শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপের পরিকল্পনা করছে তার প্রশাসন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০টি দেশের ক্ষেত্রে নতুন এই শুল্ক কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। জানা গেছে, বর্তমানে কার্যকর থাকা ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্কের পরিবর্তে দেশভেদে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক নির্ধারণ করা হতে পারে। এ তালিকায় চীন, ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশসহ এশিয়া, ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের অনেক দেশ থাকতে পারে। হোয়াইট হাউসের দাবি, অনেক দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও শ্রমবাজারকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেও নতুন শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে Trade Act of 1974-এর Section 301 অনুযায়ী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকটি শুল্ক নীতি আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। এরপর নতুন আইনি ভিত্তিতে শুল্ক আরোপের পথ খুঁজতে শুরু করে প্রশাসন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আরও বিস্তৃত পরিসরে নতুন ট্যারিফ কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন দেশের রপ্তানি খাতের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও তার প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের মধ্যে নতুন করে বাণিজ্য উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন এই শুল্ক নীতির মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমবে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, এর ফলে আমদানি পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলো এখন ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছে। কারণ এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ