আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সুইজারল্যান্ড প্রকৌশল দক্ষতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আল্পস পর্বতমালার নিচে বিশ্বের দীর্ঘতম রেলসুরঙ্গ গটহার্ড বেস টানেল (Gotthard Base Tunnel) নির্মাণের মাধ্যমে। প্রায় ১৭ বছর ধরে চলা নির্মাণকাজ শেষে ২০১৬ সালে চালু হওয়া এই টানেল ইউরোপের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে রেল যোগাযোগে নতুন যুগের সূচনা করেছে। টানেলটির দৈর্ঘ্য ৫৭.১ কিলোমিটার, আর পুরো টানেল ব্যবস্থা, সংযোগ পথ ও শ্যাফট মিলিয়ে এর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫১.৮ কিলোমিটার। এটি বর্তমানে বিশ্বের দীর্ঘতম রেলসুরঙ্গ এবং সবচেয়ে গভীর পরিবহন টানেল হিসেবে স্বীকৃত।
গটহার্ড বেস টানেলের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ৪ নভেম্বর ১৯৯৯। দীর্ঘ পরিকল্পনা, কঠিন ভূতাত্ত্বিক পরিবেশ এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০১৬ সালের ১ জুন টানেলটির উদ্বোধন করা হয়। একই বছরের ডিসেম্বর থেকে এটি নিয়মিত যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়। নির্মাণকালে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টন শিলা অপসারণ করা হয়। চারটি বিশাল টানেল বোরিং মেশিন (TBM) ব্যবহার করে আল্পসের কঠিন শিলাস্তর ভেদ করা হয়। টানেলের সর্বোচ্চ অংশে উপরের পাহাড়ের গভীরতা প্রায় ২ হাজার ৪৫০ মিটার, যা প্রকল্পটির জটিলতা আরও বাড়িয়ে তোলে। এই রেলসুরঙ্গ চালু হওয়ার ফলে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ থেকে ইতালির মিলান পর্যন্ত ট্রেন ভ্রমণের সময় প্রায় এক ঘণ্টা কমে গেছে। একই সঙ্গে ইউরোপজুড়ে পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব হয়েছে। সড়কপথের পরিবর্তে রেলপথে মালবাহী পরিবহন বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্বজুড়ে প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের কাছে গটহার্ড বেস টানেল একটি "মেগা ইঞ্জিনিয়ারিং" প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি শুধু সুইজারল্যান্ডের অবকাঠামোগত সক্ষমতার প্রতীক নয়, বরং আধুনিক প্রকৌশল, পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগেরও এক অনন্য উদাহরণ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন