প্রগতি ডেস্ক: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুলে নির্মাণাধীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং আন্তর্জাতিক মানের মডিফায়েড ক্লোভারলিফ (Modified Cloverleaf) ইন্টারচেঞ্জ এখন শেষ পর্যায়ের দিকে। দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ আরও দ্রুত, নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন করতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। প্রকল্পটি দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (SASEC)-এর সড়ক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। হাটিকুমরুলকে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানেই ঢাকা–বগুড়া–রংপুর, ঢাকা–রাজশাহী এবং পাবনাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়ক মিলিত হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার যানবাহন এই মোড় ব্যবহার করায় বছরের পর বছর তীব্র যানজট সৃষ্টি হতো। নতুন ইন্টারচেঞ্জ চালু হলে সিগন্যাল ছাড়াই বিভিন্ন দিকের যানবাহন আলাদা র্যাম্প ব্যবহার করে চলাচল করতে পারবে, ফলে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। প্রকল্পটিতে একাধিক ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস, সংযোগ সড়ক, সার্ভিস লেন, বাস বে, পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা, অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স ভবন এবং বাংলাদেশের প্রথম ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (ITS) সংযুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, মোটরসাইকেল ও সাইকেলের জন্য পৃথক লেন এবং যাত্রীসেবার বিভিন্ন আধুনিক সুবিধাও থাকবে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং অধিকাংশ সার্ভিস লেন ইতোমধ্যে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো প্রকল্প শেষ হলে এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো হিসেবে চালু হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ চালু হলে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২২টি জেলার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর, বিমানবন্দর ও নদীবন্দরের সঙ্গে পণ্য পরিবহন দ্রুততর হবে, যা বাণিজ্য, শিল্প ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

0 মন্তব্যসমূহ