ঢাকা প্রতিনিধিঃ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চালুর লক্ষ্য নিয়ে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) জন্য জাপানি কনসোর্টিয়ামকে দ্রুত সংশোধিত দরপত্র (রিভাইজড টেন্ডার) জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দরপত্র পাওয়া গেলে দ্রুত মূল্যায়ন শেষে পরিচালনা চুক্তি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, জাপানি কনসোর্টিয়ামকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সংশোধিত প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রস্তাব পর্যালোচনার পর উভয় পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত আলোচনা শেষ করে আগস্টের শেষ দিকে অথবা সেপ্টেম্বরের শুরুতে অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত না হওয়ায় এখনো এটি যাত্রীসেবার জন্য চালু করা সম্ভব হয়নি। অপারেটর নিয়োগের পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং, বোর্ডিং ব্রিজ, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো, জনবল প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি পরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক মান যাচাইসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লাগবে।
সরকারের লক্ষ্য আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে তৃতীয় টার্মিনাল আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা। শুরুতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের একটি অংশ নতুন টার্মিনাল থেকে পরিচালিত হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেখানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর অর্থায়নে নির্মিত এই মেগা প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই টার্মিনাল চালু হলে বছরে কয়েক কোটি যাত্রীকে উন্নতমানের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণক্ষমতা, কার্গো পরিচালনা, ইমিগ্রেশন সেবা এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অপারেটর নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে চলতি বছরের শেষেই দেশের সবচেয়ে আধুনিক এই টার্মিনাল যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন