নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শিল্পখাতে চলমান গ্যাস সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি এবং বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। গ্যাস সংকট রাতারাতি দূর করা সম্ভব না হলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং ব্যবসায়ী নেতাদের বৈঠকে শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। ব্যবসায়ীরা জানান, গ্যাসের নিম্নচাপ ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, রপ্তানি আদেশ সময়মতো সম্পন্ন করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার নতুন ভাসমান এলএনজি (FSRU) স্থাপনের সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং গ্যাস সরবরাহ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে জ্বালানি পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে।
এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (FSRU) কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়। এর ফলে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের চাপ কমে যায়। কারিগরি ত্রুটি দ্রুত মেরামত করে স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দিনরাত কাজ করছে।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, বর্তমান সংকট তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়। তবে এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আগামী সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হবে এবং ধীরে ধীরে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিল্প উদ্যোক্তারা প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের মতে, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন ব্যয় কমবে, রপ্তানি সক্ষমতা বাড়বে এবং নতুন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্বালানির বহুমুখীকরণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। একই সঙ্গে বিদ্যমান গ্যাসের অপচয় রোধ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করতে হবে।

0 মন্তব্যসমূহ