জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প, শপিংমলে বিস্ফোরণ ও ধস; উদ্ধার অভিযান চলছে।

জাপানে শপিংমলে বিস্ফোরণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
 টোকিও, ২৮ জুলাই: জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের কুমামোতো প্রিফেকচারে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর একটি বৃহৎ শপিংমলে বিস্ফোরণ ও আংশিক ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান চালালেও কর্তৃপক্ষ এখনও হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (JMA) জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কুমামোতো অঞ্চলের অদূরে এবং এর তীব্র কম্পন আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে পরপর আফটারশকের আশঙ্কায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কাশিমা শহরের একটি এইওন (AEON) শপিংমলে ভূমিকম্পের কিছুক্ষণ পর বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর ভবনের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে এবং ভেতরে থাকা বহু মানুষ আটকা পড়েন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লাইনের ক্ষতি থেকে বিস্ফোরণের সূত্রপাত হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।

জাপানের ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং স্ব-প্রতিরক্ষা বাহিনীর (SDF) সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। আফটারশকের ঝুঁকির কারণে উদ্ধারকাজে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

ভূমিকম্পে কেবল শপিংমলই নয়, সড়ক, ভবন ও বিভিন্ন অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে। কয়েক লাখ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী জরুরি বৈঠক ডেকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহত ও নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ