যন্তর-মন্তরে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ধ্বনি, মোদির পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল।

যন্তর মন্তর স্কয়ারে বিক্ষোভ

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর-মন্তর আবারও সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়ম, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, বিরোধী মত দমনের অভিযোগ এবং সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রতিবাদে হাজারো মানুষ সেখানে জড়ো হন। বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে বারবার উচ্চারিত হয় ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘মোদি সরকার হায় হায়’ এবং ‘মোদির পদত্যাগ চাই’—এমন নানা স্লোগান। আন্দোলনকারীদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতির দায় সরকারের এড়ানোর সুযোগ নেই। তাই শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক দায় স্বীকারের দাবিও জানানো হয়।

যন্তর-মন্তরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে শিক্ষার্থী, যুব সংগঠন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারের ব্যর্থতার কারণে বেকারত্ব, শিক্ষা সংকট ও প্রশাসনিক জবাবদিহির অভাব দিন দিন বাড়ছে। এসব ইস্যুতেই সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন রাজপথে নেমে এসেছে। এর আগে সংসদ ভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এদিকে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিরোধী নেতারাও বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা অভিযোগ করেন, জনগণের কণ্ঠ রোধ করতে সরকার প্রশাসনকে ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে তারা আন্দোলনকারীদের দাবি দ্রুত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছে, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে বিরোধীরা সরকারের এ ব্যাখ্যাকে যথেষ্ট নয় বলে দাবি করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান ইস্যুতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ধীরে ধীরে বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপ নিচ্ছে। যন্তর-মন্তরের এই বিক্ষোভ আগামী দিনে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Breaking Bangla News | Latest Bangladesh & World Updates