প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
00:00:00

গ্রিনল্যান্ডের হিমবাহ গলার রহস্য জানতে রোবট নামাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

গ্রিনল্যান্ডের হিমবাহ

 প্রযুক্তি ডেস্ক: ড্রোন, পানির নিচের রোবট ও অত্যাধুনিক সেন্সরের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে এমন তথ্য, যা ভবিষ্যতের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পূর্বাভাসকে আরও নির্ভুল করতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বরফস্তরগুলোর একটি গ্রিনল্যান্ডের হিমবাহ দ্রুত গলছে। কিন্তু সমুদ্রের সঙ্গে মিলিত হওয়ার ঠিক কোন অংশে এবং কীভাবে এই বরফ এত দ্রুত ক্ষয় হচ্ছে—এ প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে নেই। সেই রহস্য উদঘাটনেই এবার একঝাঁক অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় রোবট, ড্রোন এবং পানির নিচে চলাচলকারী যান পাঠাচ্ছেন আন্তর্জাতিক গবেষকরা। ‘জায়ান্ট (GIANT - Greenland Ice Sheet to Atlantic Tipping Points)’ নামে পাঁচ বছরব্যাপী এই গবেষণা প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছে ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভে (BAS)। এতে যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও গ্রিনল্যান্ডের ১৭টি গবেষণা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। ২০২৬ ও ২০২৭ সালে গ্রিনল্যান্ডে বড় আকারের মাঠপর্যায়ের অভিযান পরিচালনা করা হবে। গবেষণায় ব্যবহৃত হবে আকাশে ওড়া ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় নৌযান, পানির নিচে চলাচলকারী রোবট, সমুদ্রের তলায় স্থাপন করা সেন্সর এবং স্যাটেলাইট। এসব প্রযুক্তি এমন সব এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে, যেখানে মানুষের পৌঁছানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বা প্রায় অসম্ভব। বিজ্ঞানীরা বলছেন, গ্রিনল্যান্ডের অনেক হিমবাহ ওপর থেকে নয়, বরং সমুদ্রের উষ্ণ পানির সংস্পর্শে নিচের দিক থেকেও দ্রুত গলছে। কিন্তু এসব অঞ্চলের তথ্য খুবই সীমিত হওয়ায় হিমবাহ কত দ্রুত গলবে এবং ভবিষ্যতে সমুদ্রপৃষ্ঠ কতটা বাড়তে পারে, সে বিষয়ে নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই অভিযানে ব্যবহৃত সব রোবট পরিচালনা করা হবে যুক্তরাজ্যের অত্যাধুনিক মেরু গবেষণা জাহাজ RRS Sir David Attenborough থেকে। রোবটগুলো সমুদ্রের তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, পানির স্রোত, বরফের পুরুত্ব এবং গলনের হারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করবে। পরে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে আরও উন্নত জলবায়ু মডেল তৈরি করবেন গবেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিনল্যান্ডের বরফস্তর পৃথিবীর অন্যতম বড় মিঠাপানির ভাণ্ডার। এই বরফ দ্রুত গলতে থাকলে বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে, যা উপকূলীয় অঞ্চল, দ্বীপরাষ্ট্র এবং কোটি কোটি মানুষের জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ স্রোত, বৈশ্বিক আবহাওয়া এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে। গবেষকদের আশা, এই প্রকল্প থেকে পাওয়া তথ্য ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে আরও নির্ভুল পূর্বাভাস দিতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও সম্ভাব্য জলবায়ু ঝুঁকি সম্পর্কে বিশ্বকে আগাম সতর্ক করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই গবেষণা।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
📢 আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন
প্রগতি বার্তা
আপনার ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার করুন
হাজারো পাঠকের কাছে পৌঁছে দিন আপনার বিজ্ঞাপন
progatibarta.com

💬 WhatsApp এ যোগাযোগ করুন
সরাসরি যোগাযোগ: ০১৩০৯০৮১৪৯০

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক