সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অতীত কার্যক্রম তদন্তে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে: আইনমন্ত্রী।

আইনমন্ত্রী

 ডেস্ক রিপোর্টঃ সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অতীত দায়িত্ব পালনের সময়কার কর্মকাণ্ড এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে সরকার নিরপেক্ষ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে আইন সবার জন্য সমান—সেই নীতিতেই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৬ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য এবং পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে যেসব অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার এবং ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, "কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাকে দোষী বলা যায় না। আবার অভিযোগকে উপেক্ষাও করা যায় না। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই সরকারের নীতি।"

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। অতীতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন—এমন কেউও আইনের ঊর্ধ্বে নন। তদন্তে যদি কোনো অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি দাবি করেন, বিগত সময়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও আর্থিক অব্যবস্থাপনার কারণে রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে সরকার কাজ করছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে অভিযুক্ত বা নির্দোষ ঘোষণা করা সমীচীন নয়। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। সে কারণে রাজনৈতিক পরিচয়, পদমর্যাদা কিংবা অতীতের অবস্থান বিবেচনায় নয়, বরং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সাবেক রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান জানা যাবে না। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ