ডেস্ক রিপোর্ট
ঢাকার সাভারের আশুলিয়া বাজার নৌকা ঘাটে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি নৌকা মিছিলকে উদ্দ্যেশ্যে করে জমায়েত হতে চাইলে, পুলিশ এর ধাওয়ায় গ্রেফতার আতঙ্কে , নদীতে ঝাঁপ দেয় ছাত্রলীগ এবং আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।
এতে দুইজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। ২২ জুন (২০২৬) দুপুরে ঘটনাটি ঘটে। পরদিন ২৩ জুন নদী থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ২২ জুন দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে তুরাগ থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিকের নেতৃত্বে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী একটি নৌকাযোগে মিছিলের উদ্দেশ্যে রুস্তমপুর ঘাট থেকে রওনা হন। পরে তারা আশুলিয়া বাজার নৌকা ঘাটে পৌঁছালে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নেতাকর্মীরা দ্রুত নৌকায় ফিরে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে তাড়াহুড়োর মধ্যে নৌকার নোঙর তুলতে না পারায় নৌকাটি আটকে যায়। একপর্যায়ে পুলিশ নৌকার নোঙর ধরে ফেললে কয়েকজন নদীতে ঝাঁপ দেন। ঘটনাস্থল থেকেই সাতজনকে আটক করে পুলিশ।
নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় ঝাঁপ দেওয়া দুজন নিখোঁজ হন। পরদিন তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন ঢাকার তুরাগ এলাকার বাসিন্দা সুমন এবং রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আরিজর হরিশ্বর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাইয়ের ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে মরদেহে পচন ধরেছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, নৌকা মিছিলের সার্বিক সহযোগিতা করেছিলেন তুরাগের নলভোগ এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা কফিল উদ্দিন মেম্বার এবং রানাভোলার মামুন। ব্যবহৃত নৌকাটি ছিল আম্বর আলীর মালিকানাধীন এবং মাঝি ছিলেন অজয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন মাধ্যমে চারজনের মৃত্যু এবং আরও কয়েকজন নিখোঁজ থাকার দাবি প্রচার করা হয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী এবং ঘটনাস্থল ঘুরে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ মেলেনি। অতিরিক্ত কোনো মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ও নিশ্চিত হয়নি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন