পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচিতে আধাসামরিক বাহিনী সিন্ধ রেঞ্জার্সের একটি সদর দফতরে ভয়াবহ সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরকবোঝাই একটি যানবাহন দিয়ে প্রবেশপথে আঘাত হানার পর একদল ভারী অস্ত্রধারী হামলাকারী নিরাপত্তা কম্পাউন্ডে ঢুকে পড়ে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় অন্তত তিনজন সিন্ধ রেঞ্জার্স সদস্য নিহত হয়েছেন। পাল্টা অভিযানে তিন থেকে চারজন হামলাকারীও নিহত হয়। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলা গোলাগুলির পর নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক ঘোষণা করে।
হামলাটি করাচির গুলিস্তান-ই-জওহর এলাকায় সংঘটিত হয়, যেখানে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, এরপর স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলিতে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং অভিযান শুরু করে। পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারীরা বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি দিয়ে নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। পরে তারা রেঞ্জার্স সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। হামলার দায় জামাত-উল-আহরার নামে একটি জঙ্গিগোষ্ঠী স্বীকার করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে করাচিতে বড় ধরনের জঙ্গি হামলা কমে এলেও এই হামলা পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এমন হামলা জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা ও কৌশল নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং হামলার নেপথ্যে জড়িতদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন