প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
◷ 00:00:00

মদিনায় ১১৪ মিলিয়ন টন আকরিকের সন্ধান, রয়েছে ইউরেনিয়াম ও বিরল খনিজ।

মদিনার জাবাল সাইদ এলাকায় ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিক ও বিরল মৃত্তিকা খনিজের সন্ধান

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ খনিজসম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান জানিয়েছেন, মদিনা অঞ্চলের জাবাল সাইদ প্রকল্প এলাকায় অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় প্রায় ১১৪ মিলিয়ন টন আকরিকের সম্ভাব্য সম্পদ শনাক্ত হয়েছে। এসব আকরিকের মধ্যে বিরল মৃত্তিকা খনিজের পাশাপাশি ইউরেনিয়ামেরও সম্ভাবনাময় ঘনত্ব পাওয়া গেছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) সাধারণ সম্মেলনে সৌদি আরবের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় জ্বালানিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। সৌদি প্রেস এজেন্সির (SPA) তথ্যের বরাত দিয়ে বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।

জাবাল সাইদ প্রকল্প এলাকায় পরিচালিত অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণার ফলাফলে বিপুল পরিমাণ আকরিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। সৌদি জ্বালানিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব আকরিকের মধ্যে বিশেষ করে ভারী বিরল মৃত্তিকা উপাদানের (Heavy Rare Earth Elements) ঘনত্ব উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি ইউরেনিয়ামেরও সম্ভাবনাময় উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

এই আবিষ্কার সৌদি আরবের খনিজসম্পদ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে অর্থনীতির বিভিন্ন খাত সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে খনিজসম্পদ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পারমাণবিক শক্তির মতো খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ১১৪ মিলিয়ন টন আকরিক (ore) বা খনিজসমৃদ্ধ কাঁচামালের সম্ভাব্য সম্পদের কথা বলা হয়েছে। সেই আকরিকের মধ্যে ইউরেনিয়াম ও বিরল মৃত্তিকা খনিজের উপস্থিতি রয়েছে। অর্থাৎ পুরো ১১৪ মিলিয়ন টনকে ইউরেনিয়ামের মজুত হিসেবে গণনা করা যাবে না।

Reuters-এর প্রতিবেদনে সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে প্রায় ১১০ মিলিয়ন টন ইউরেনিয়াম-সমৃদ্ধ কাঁচামালের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে জর্ডানের সরকারি সংবাদ সংস্থা Petra সৌদি জ্বালানিমন্ত্রীর বক্তব্যের ভিত্তিতে পরিমাণটি প্রায় ১১৪ মিলিয়ন টন আকরিক হিসেবে জানিয়েছে। সংখ্যার এই পার্থক্য মূলত প্রতিবেদন ও পরিভাষার ব্যবহারের কারণে দেখা যাচ্ছে।

সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই নিজস্ব ইউরেনিয়াম সম্পদ অনুসন্ধান এবং পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরির চেষ্টা করছে। জ্বালানিমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশটির জাতীয় পরমাণু শক্তি কর্মসূচির আওতায় ইউরেনিয়াম সম্পদ অনুসন্ধান এবং সেগুলো অর্থনৈতিকভাবে ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।

এর একটি অংশ হলো দেশের উত্তরাঞ্চলে ফসফেট সার উৎপাদনের সময় ফসফরিক অ্যাসিডের সঙ্গে থাকা ইউরেনিয়াম আহরণের সম্ভাবনা যাচাই করা। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বড় ফসফেট সার রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় এই প্রক্রিয়া থেকেও ইউরেনিয়াম আহরণের সম্ভাবনা দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জ্বালানিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ফরাসি পারমাণবিক প্রতিষ্ঠান Orano-এর সঙ্গে পরীক্ষামূলক কাজেও ইউরেনিয়াম আহরণের ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক অর্থনৈতিক ফল পাওয়া গেছে। এ সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় গত আগস্টে সৌদি যুবরাজের ফ্রান্স সফরের সময় একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করা হয়।

জাবাল সাইদ এলাকায় ইউরেনিয়ামের পাশাপাশি ভারী বিরল মৃত্তিকা খনিজের উপস্থিতিও সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্পে বিভিন্ন ধরনের বিরল মৃত্তিকা উপাদানের ব্যবহার রয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, উন্নত ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, চুম্বক, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে এসব খনিজ গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ফলে মদিনা অঞ্চলের নতুন খনিজসম্পদ সৌদি আরবের জন্য শুধু পারমাণবিক জ্বালানির সম্ভাবনাই তৈরি করছে না; দেশটির বৃহত্তর খনিজ ও শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সৌদি আরবের অর্থনীতির অন্যতম বড় ভিত্তি তেল। তবে দেশটির Vision 2030 পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে বহুমুখী করা এবং তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো।

এই পরিকল্পনার আওতায় খনিজসম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলনকে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। মদিনার জাবাল সাইদ এলাকায় বিপুল পরিমাণ আকরিকের সন্ধান সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে কোনো নতুন খনিজসম্পদের প্রকৃত অর্থনৈতিক মূল্য নির্ধারণের জন্য আরও অনুসন্ধান, নমুনা পরীক্ষা, মজুতের শ্রেণিবিন্যাস এবং উত্তোলনযোগ্যতার মূল্যায়ন প্রয়োজন। তাই এখনই পুরো আকরিকের বাণিজ্যিক মূল্য বা কত পরিমাণ ইউরেনিয়াম বাস্তবে উত্তোলন করা যাবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

সৌদি আরব বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও এগিয়ে নিচ্ছে। দেশটির জাতীয় পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচির মধ্যে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ ও দেশীয়ভাবে ইউরেনিয়াম সম্পদ ব্যবহারের বিষয়টি রয়েছে।

জ্বালানিমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইউরেনিয়াম সম্পদ অনুসন্ধান এবং অর্থনৈতিকভাবে ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাইয়ের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। এর ফলে মদিনায় নতুন খনিজসম্পদের সন্ধান দেশটির দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক জ্বালানি পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

জাবাল সাইদ এলাকায় পাওয়া সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ ও গুণগত মান নির্ধারণে আরও বিস্তারিত ভূতাত্ত্বিক পরীক্ষা প্রয়োজন। এরপর নির্ধারণ করা হবে কতটুকু আকরিক অর্থনৈতিকভাবে উত্তোলন করা সম্ভব এবং এতে ইউরেনিয়াম ও বিরল মৃত্তিকা খনিজের প্রকৃত মজুত কত।

যদি পরবর্তী পরীক্ষায় বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইউরেনিয়াম ও বিরল মৃত্তিকা খনিজের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়, তাহলে সৌদি আরবের খনিজ ও পারমাণবিক জ্বালানি খাতে এটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

সব মিলিয়ে, মদিনার জাবাল সাইদ এলাকায় বিপুল পরিমাণ খনিজসমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান সৌদি আরবের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। তবে এটিকে এখনই ১১৪ মিলিয়ন টন বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। পরবর্তী অনুসন্ধান ও মূল্যায়নের ফলই নির্ধারণ করবে এই সম্পদের প্রকৃত অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব কতটা।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
📢 আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন
প্রগতি বার্তা
আপনার ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার করুন
হাজারো পাঠকের কাছে পৌঁছে দিন আপনার বিজ্ঞাপন
progatibarta.com

💬 WhatsApp এ যোগাযোগ করুন
সরাসরি যোগাযোগ: ০১৩০৯০৮১৪৯০

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক