ডেস্ক রিপোর্টঃ ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও আবদুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১১ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়।
মামলাটির শুনানি রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে।
যেসব আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে
হাসানুল হক ইনু ছাড়াও ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে—
তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু
তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক
সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি
সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক
মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান
সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির
৭১ টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু
সাংবাদিক ফারজানা রুপা
মামলায় মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে বর্তমানে কারাগারে থাকা ১১ জনকে বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাখিল করা অভিযোগে দুটি প্রধান অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আনা হয়েছে।
গত ২৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ প্রসিকিউশনের দাখিল করা ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং কারাগারে থাকা আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত ১৬ আগস্ট এই মামলায় ১১ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার কথা ছিল। তবে দুজন আসামির বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি না হওয়া এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) না আসায় সেদিন সময় চেয়েছিল প্রসিকিউশন।
পরে ট্রাইব্যুনাল ৩ সেপ্টেম্বর আসামিদের হাজির ও মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য দিন ধার্য করেন।
মামলার পরবর্তী শুনানি ও ট্রাইব্যুনালের আদেশের ওপর এখন নজর রয়েছে। শুনানিতে মামলার পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে নির্দেশনা আসতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন