আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ জাপানের উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার USS Fitzgerald ও ফিলিপাইনের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ACX Crystal-এর সংঘর্ষে সাত মার্কিন নৌসেনা নিহত হন। ঘটনাটি ঘটে ২০১৭ সালের ১৭ জুন ভোরে, জাপানের ইয়োকোসুকা বন্দরের দক্ষিণ-পশ্চিমে সমুদ্রে।
মার্কিন নৌবাহিনী ও ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (NTSB) তদন্ত অনুযায়ী, সংঘর্ষের আগে দুই জাহাজের দূরত্ব ক্রমেই কমছিল। কিন্তু কোনো জাহাজই অপর জাহাজকে রেডিওতে সতর্ক করেনি। সংঘর্ষের কয়েক সেকেন্ড আগে উভয় জাহাজের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা দুর্ঘটনা এড়াতে দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। তবে তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং সংঘর্ষ ঘটে।
সংঘর্ষে USS Fitzgerald-এর সামনের ডান পাশের অংশে ব্যাপক ক্ষতি হয়। জাহাজটির ভেতরের কয়েকটি অংশে পানি ঢুকে পড়ে। দুর্ঘটনায় সাতজন নৌসেনা প্রাণ হারান এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে জাহাজটির কমান্ডিং অফিসারও ছিলেন। অন্যদিকে ACX Crystal-এর সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ওই জাহাজে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ সাত নৌসেনার সন্ধানে জাপানি ও মার্কিন বাহিনী উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে জাহাজের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর তদন্তে বলা হয়, দুর্ঘটনার পর Fitzgerald-এর ক্রুরা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে কাজ করেন এবং তাদের তৎপরতায় আরও প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়।
পরবর্তী তদন্তে দুর্ঘটনার পেছনে নেভিগেশন, যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ ও নেতৃত্বসংক্রান্ত একাধিক সমস্যা চিহ্নিত করা হয়। NTSB-এর চূড়ান্ত তদন্তেও বলা হয়, সংঘর্ষের আগে জাহাজ দুটির মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি ছিল এবং শেষ মুহূর্তে নেওয়া এড়ানোর পদক্ষেপ যথেষ্ট ছিল না।
ঘটনাটিকে ঘিরে মার্কিন নৌবাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্তও হয়। নৌবাহিনী পরে জানায়, দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের ঘটনাগুলো দায়িত্ব পালনের সময় ঘটেছে এবং তাদের কারও নিজের অসদাচরণের কারণে এসব হতাহত হয়নি।
উল্লেখ্য, এটি দুই মার্কিন রণতরীর সংঘর্ষ ছিল না। একটি ছিল মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ USS Fitzgerald এবং অন্যটি ছিল বাণিজ্যিক কনটেইনার জাহাজ ACX Crystal। একই বছর আগস্টে আরেক মার্কিন ডেস্ট্রয়ার USS John S. McCain একটি বাণিজ্যিক জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, যেখানে আরও ১০ মার্কিন নৌসেনা নিহত হন।

إرسال تعليق