আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২০ আগস্ট ২০২৬
ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার উপকূলে আবারও জলদস্যু আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড উপকূল থেকে তুরস্কের অস্ত্র ও সামরিক যোগাযোগ সরঞ্জাম বহনকারী একটি কার্গো জাহাজ ছিনতাই করেছে জলদস্যুরা। জাহাজটির ১০ সদস্যের ক্রুকেও জিম্মি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সোমালিয়ার এক কর্মকর্তা।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যামেরুনের পতাকাবাহী M/V LUTUF নামের জাহাজটি সোমবার পুন্টল্যান্ডের ইল জেলার মাররায়া এলাকার উপকূল থেকে ছিনতাই করা হয়। স্থানটি উপকূল থেকে প্রায় সাড়ে তিন নটিক্যাল মাইল দূরে। ছিনতাইয়ের পর জলদস্যুরা জাহাজটিকে সোমালিয়ার নুগাল অঞ্চলের উপকূলের দিকে নিয়ে যায়।
সোমালিয়ার ওই কর্মকর্তা জানান, জাহাজটিতে তুরস্কের অস্ত্রের পাশাপাশি যোগাযোগ ও স্যাটেলাইট সরঞ্জাম ছিল। এসব সরঞ্জাম মোগাদিশুতে থাকা একটি তুর্কি সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রের জন্য পাঠানো হচ্ছিল। তবে জাহাজটির পণ্যবাহী তালিকা বা কার্গোর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
জাহাজটির ১০ সদস্যের ক্রুতে ভারত, তুরস্ক, জর্জিয়া ও সার্বিয়ার নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। ক্রু ও কার্গোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এপি জানিয়েছে, আটজন সশস্ত্র ব্যক্তি জাহাজটি দখলে নেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছিনতাইকারীরা এর আগে একটি জাহাজ ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। তবে জলদস্যুদের পরিচয় এবং তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ঘটনার পর দুটি তুরস্কের মালিকানাধীন জাহাজ এবং আকাশপথে হেলিকপ্টার ও ড্রোন দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে বলে এপি জানিয়েছে। মঙ্গলবার জলদস্যুদের কাছে একটি ছোট নৌযানে করে খাত পৌঁছে দেওয়ার পর সেটি তীরে ফিরে আসে। এর কিছু সময় পর একটি বিমান হামলায় চারজন নিহত ও দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তবে হামলাটি কারা চালিয়েছে এবং নিহতরা ছিনতাইয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে জাহাজটির ক্রু ও কার্গোর নিরাপত্তা নিয়ে পরিস্থিতি এখনো পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
সোমালিয়ার উপকূলে সাম্প্রতিক সময়ে জলদস্যুদের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসেও পশ্চিম ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বেশ কয়েকটি জাহাজ ও নৌযানকে লক্ষ্য করে হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এর ফলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
সোমালিয়ার উপকূল ও এডেন উপসাগর বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথগুলোর কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে জলদস্যুদের তৎপরতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন