ডেস্ক রিপোর্টঃ চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের আওতায় তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ করা হবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আবেদন করা উত্তরপত্রের মধ্যে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি তত্ত্বীয় এবং ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি ব্যবহারিক উত্তরপত্র রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করায় আবেদনকারী শিক্ষার্থীর তুলনায় উত্তরপত্রের সংখ্যা অনেক বেশি হয়েছে।
১০ আগস্ট ফল প্রকাশ
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ বছর মোট ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
ফল প্রকাশের পরদিন ১১ আগস্ট থেকে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। আবেদনের শেষ সময় ছিল ১৭ আগস্ট। প্রতিটি পত্রের ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীদের ১৫০ টাকা করে ফি দিতে হয়েছে।
ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি আবেদন
বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি পত্রের ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার জন্য ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৫৩টি এবং ব্যবহারিকসহ অন্যান্য অংশ মিলিয়ে মোট আবেদন ওই সংখ্যায় পৌঁছেছে।
অন্যান্য বোর্ডের মধ্যে—
কুমিল্লা: ৩৫ হাজার ৯২৯ জন, ৯১ হাজার ৪৯৪টি পত্র
রাজশাহী: ৩৯ হাজার ৭৬২ জন, ৯৮ হাজার ৭১০টি পত্র
যশোর: ২৮ হাজার ৮৬২ জন, ৭৪ হাজার ৭১৭টি পত্র
চট্টগ্রাম: ৩৯ হাজার ৭৯৮ জন, ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০৬টি পত্র
বরিশাল: ১৭ হাজার ২৮৩ জন, ৫০ হাজার ২৯৩টি পত্র
সিলেট: ২০ হাজার ৭৮২ জন, ৫০ হাজার ৭১০টি পত্র
দিনাজপুর: ৩৭ হাজার ২৯৬ জন, ৮৯ হাজার ২৮৬টি পত্র।
এ ছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজার ৩০৭ জন দাখিল পরীক্ষার্থী ৩৪ হাজার ৩০৫টি পত্র এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী ৭১ হাজার ৬৬টি পত্রের ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।
এবার পুনর্মূল্যায়নও হবে
এবারের পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন সাধারণত উত্তরপত্রে নম্বর যোগে ভুল হয়েছে কি না, কোনো প্রশ্নের নম্বর বাদ পড়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হতো। এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন বা পুনর্নিরীক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরীক্ষক নিয়োগ করতে হচ্ছে। আবেদনের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ফল প্রকাশে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
তবে পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার।
কেন এত আবেদন?
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফল পায়নি। বিশেষ করে ফেল করা, প্রত্যাশার তুলনায় কম নম্বর পাওয়া এবং গ্রেড নিয়ে অসন্তোষের কারণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থাকায় আবেদনকারীর সংখ্যাও বেড়েছে।
শিক্ষা বোর্ডগুলো এখন আবেদন করা উত্তরপত্রগুলো নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়ন করবে। এরপর পরিবর্তিত ফল থাকলে তা প্রকাশ করা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন