৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ 'রাষ্ট্রপতি নির্বাচন' আজ।

৩৫ বছর পর বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬

 নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ২০ আগস্ট ২০২৬

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রয়েছেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।

তবে এবারের নির্বাচন সরাসরি জনগণের ভোটে নয়। সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। দুই প্রার্থী থাকায় আজ সংসদে ভোটগ্রহণ করতে হচ্ছে। ভোট হবে প্রকাশ্য বা ওপেন ব্যালটে। সংসদ সদস্যরা ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

জাতীয় সংসদে বিএনপির ২৪৭ জন সদস্য থাকায় দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটেরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংসদ সদস্য রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা করেছে। সংসদের চট্টগ্রাম-৪ আসনটি বর্তমানে শূন্য থাকায় মোট ৩৫০ আসনের মধ্যে একজন ভোটার কম।

বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও সংসদ সদস্য হওয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। এমনকি তিনি নিজের পক্ষেও ভোট দিতে পারবেন। তবে প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন, তাই তিনি এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না।

বাংলাদেশে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালের অক্টোবরে। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুদ্দীন হায়দার চৌধুরীকে পরাজিত করেন। ভোটের ফল ছিল ১৭২-৯২। এরপরের সব রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকায় ভোটাভুটির প্রয়োজন হয়নি।

১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসে। এরপর সংসদ সদস্যদের ভোটে একাধিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এবারের নির্বাচন তাই দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্যদের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আজ দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। ভোট চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোট শুরুর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচন কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে নির্দেশনা দেবেন।

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর একই স্থানে ব্যালট গণনা করা হবে। সংসদ সদস্যরা চাইলে ভোট গণনার সময়ও সেখানে উপস্থিত থাকতে পারবেন। গণনা শেষে নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ফল ঘোষণা করবেন এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটদানের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ হারানোর বিধান রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ও ভোটার হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে একাধিক আইনি প্রশ্ন উঠেছিল। সর্বশেষ ১৯ আগস্ট হাইকোর্ট একটি রিট খারিজ করে দেয়। এর ফলে ২০ আগস্ট নির্ধারিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রকাশ্য ব্যালটে ভোট দেওয়ার বিধান চ্যালেঞ্জ করেও রিট করা হয়েছিল। হাইকোর্ট সেটিও খারিজ করে দিয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়। তাঁর পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের উদ্যোগ নেয় নির্বাচন কমিশন। ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় এবং ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

নির্বাচিত নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মণি জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে শপথের সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৭টা ৩০ মিনিটের মধ্যে নির্ধারিত থাকার কথা জানানো হয়েছে।

৩৫ বছর পর একাধিক প্রার্থীর অংশগ্রহণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ায় আজকের ভোট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। যদিও সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে ফলাফল অনেকটাই অনুমেয়, তবু দুই প্রার্থীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক ভোটাভুটির মধ্য দিয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
00:00:00

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক