এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদন শুরু ২১ আগস্ট, ১৪ নির্দেশনা।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে মাউশি

 বিশেষ প্রতিনিধিঃ বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুল প্রতীক্ষিত বদলির আবেদন গ্রহণের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ১৪ দফা নির্দেশনা দিয়ে এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। মাউশির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২১ আগস্ট থেকে ২৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত অনলাইনে বদলির আবেদন করা যাবে। বদলিতে আগ্রহী শিক্ষকদের মোবাইল ফোনে পাঠানো ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হবে।

যেভাবে আবেদন করতে হবেঃ

বদলির জন্য আবেদন করতে হবে ngttdshe.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে। একজন শিক্ষক তার পছন্দের ক্রমানুসারে সর্বোচ্চ তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রাপ্ত আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট বদলি নীতিমালা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্রিয়া করা হবে। এরপর কর্তৃপক্ষ বদলিভিত্তিক পদায়নের আদেশ জারি করবে।

কোন জেলায় বদলির আবেদন করা যাবেঃ

বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারী শিক্ষক তার চাকরির আবেদনে উল্লেখ করা নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

নিজ জেলায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শূন্য পদ না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলায় বিদ্যমান শূন্য পদের বিপরীতে বদলির আবেদন করা যাবে।

এ ছাড়া স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা অথবা স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল জেলার শূন্য পদের বিপরীতেও বদলির আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল বলতে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান অথবা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা বোঝানো হয়েছে।

আইডি-পাসওয়ার্ড না পেলে যা করবেনঃ

বদলি সফটওয়্যারে আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড অনেক শিক্ষকের মোবাইলে পাঠানো হয়েছে। যেসব শিক্ষক এখনো আইডি-পাসওয়ার্ড পাননি, তাদের জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় তা সংগ্রহের সুযোগ রাখা হয়েছে।

শিক্ষক বাতায়নে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আইডি-পাসওয়ার্ড না পাওয়া শিক্ষকরা যেকোনো টেলিটক নম্বর থেকে NGTT Help-এ দেওয়া মোবাইল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠালে ফিরতি মেসেজে আইডি ও পাসওয়ার্ড পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

চাকরির দুই বছর পূর্ণ না হলে আবেদন নয়

বদলি নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম কর্মস্থলে যোগদানের পর দুই বছর চাকরি পূর্ণ হলে একজন শিক্ষক বদলির আবেদনের জন্য যোগ্য হবেন।

একবার বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পরও পরবর্তী বদলির আবেদন করতে হলে সেখানে ন্যূনতম দুই বছর কর্মরত থাকতে হবে। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে করা আবেদন বিবেচনা করা হবে না। ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

বদলি হলেও এমপিও থাকবে

বদলির ক্ষেত্রে শিক্ষকের এমপিও-সংক্রান্ত সুবিধা ও চাকরির ধারাবাহিকতা নীতিমালা অনুযায়ী বজায় থাকবে। তবে বদলির কারণে কোনো শিক্ষক টিএ/ডিএ পাবেন না।

বদলির আদেশ জারির পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ১০ দিনের মধ্যে শিক্ষককে অবমুক্ত করতে হবে। অবমুক্ত হওয়ার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অবমুক্ত হওয়া থেকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান পর্যন্ত সময় কর্মকাল হিসেবে গণ্য হবে।

ভুল তথ্য দিলে দায় শিক্ষকের ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের

বদলি সফটওয়্যারে কোনো শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য ভুল থাকলে তার দায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান ও আবেদনকারী শিক্ষককে ব্যক্তিগতভাবে বহন করতে হবে।

বিশেষ করে চাকরির তথ্য, শূন্য পদ, স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থলসহ অন্যান্য তথ্য আবেদন করার আগে ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

১৪ দফা নির্দেশনায় যা আছে

মাউশির বিজ্ঞপ্তির গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো হলো—

১. ২১ আগস্ট থেকে ২৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে।

২. মোবাইলে পাঠানো ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হবে।

৩. একজন আবেদনকারী সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিষ্ঠানে পছন্দের ক্রমানুসারে আবেদন করতে পারবেন।

৪. আবেদনকারীর চাকরির আবেদনে উল্লেখ করা নিজ জেলার শূন্য পদের বিপরীতে বদলির আবেদন করা যাবে।

৫. নিজ জেলায় শূন্য পদ না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলার শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করা যাবে।

৬. স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা অথবা নির্ধারিত কর্মস্থল জেলার শূন্য পদের বিপরীতেও আবেদন করা যাবে।

৭. স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল হিসেবে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

৮. বদলি সফটওয়্যারে ভুল তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান ও আবেদনকারী শিক্ষক দায়ী থাকবেন।

৯. আবেদনগুলো বদলি নীতিমালা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারে প্রক্রিয়া করা হবে।

১০. বদলির আদেশ জারির পর ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষককে অবমুক্ত করতে হবে।

১১. অবমুক্ত হওয়ার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।

১২. বদলির জন্য কোনো ধরনের টিএ/ডিএ দেওয়া হবে না।

১৩. আবেদন করলেই বদলি নিশ্চিত হবে না; নীতিমালা ও শূন্য পদের ভিত্তিতে বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

১৪. অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যসম্বলিত আবেদন বিবেচনা করা হবে না এবং ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য প্রমাণিত হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর বদলির সুযোগ

বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলি নিয়ে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। মাউশির ১৮ আগস্টের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়ার সময়সূচি ও আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা স্পষ্ট করা হয়েছে।

তবে আবেদনকারীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করার পাশাপাশি সফটওয়্যারে থাকা তথ্য সঠিক কি না, তা যাচাই করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। কারণ ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সূত্র: মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
00:00:00

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক