আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রায় ১,৭০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ ইসরায়েল আটকে রেখেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদপত্র হারেৎজ। ভবিষ্যতে ইসরায়েলি জিম্মি বা নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো বিনিময় বা দরকষাকষি হলে এসব মরদেহকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহলে আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
১১ আগস্ট প্রকাশিত হারেৎজের প্রতিবেদনে দুইটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা কাঠামোর অভ্যন্তরীণ আলোচনায় দেশটির কাছে থাকা ফিলিস্তিনিদের মরদেহের সংখ্যা প্রায় ১,৭০০ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিন বেটের প্রধান ডেভিড জিনি এসব মরদেহ এখনই ফেরত না দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ভবিষ্যতে কোনো ইসরায়েলি নাগরিক জিম্মি হলে বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটলে সম্ভাব্য বিনিময় আলোচনায় এসব মরদেহ ব্যবহার করা যেতে পারে—এমন যুক্তিতে তিনি মরদেহগুলো ধরে রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও জিনির এই অবস্থানকে সমর্থন করেছে বলে হারেৎজ জানিয়েছে।
হারেৎজের তথ্য অনুযায়ী, আটকে রাখা মরদেহগুলোর বেশির ভাগই গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিদের। তাদের মধ্যে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তি এবং পরবর্তী সময়ে সংঘাতে জড়িত ব্যক্তিরা রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে তালিকায় এমন কিছু ফিলিস্তিনির মরদেহও রয়েছে, যারা কোনো যুদ্ধে অংশ নেননি বলে হারেৎজ জানিয়েছে।
এ নিয়ে আইনি প্রশ্নও উঠেছে। হারেৎজের উদ্ধৃত আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধে অংশ নেওয়ার প্রমাণ নেই—এমন ফিলিস্তিনিদের মরদেহ আটকে রাখার আইনি ক্ষমতা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের মরদেহ আটকে রাখার নীতির জন্য ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হতে পারে।
এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ফিলিস্তিনি ‘ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর দ্য রিট্রিভাল অব Martyrs’ Bodies and Disclosure of the Fate of the Missing’ জানিয়েছিল, ইসরায়েল প্রায় ১,৫০০ গাজাবাসীর মরদেহ আটকে রেখেছে। নতুন প্রতিবেদনে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১,৭০০ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
হারেৎজের প্রতিবেদনের এই তথ্য প্রকাশের পর ফিলিস্তিনিদের মরদেহ হস্তান্তর, তাদের পরিবারের অধিকার এবং ভবিষ্যৎ বন্দি বা জিম্মি বিনিময়ে মরদেহ ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

إرسال تعليق