ক্রীড়া প্রতিবেদক | ঢাকা | ১৯ আগস্ট ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয় ভবিষ্যতে দেশটিতে আরও বেশি খেলার সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করেন জাতীয় দলের পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) মিরপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাইফউদ্দিন বলেন, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের কন্ডিশনে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর আশা, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাম্প্রতিক সাফল্যের ফলে ভবিষ্যতে দেশটিতে আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ তৈরি হবে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়
ডারউইনে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। চার দিনের মধ্যেই ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসে বাংলাদেশ। এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
এই জয় বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে এটিই বাংলাদেশের প্রথম জয়। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট জয়ও এটি। ঐতিহাসিক এই ফলের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস যেমন বেড়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দলের সক্ষমতাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আরও বেশি ম্যাচ খেলার আশা সাইফউদ্দিনের
ঐতিহাসিক এই জয়কে ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সাইফউদ্দিন। তাঁর মতে, প্রত্যেক ক্রিকেটারেরই ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন কন্ডিশনে খেলার স্বপ্ন থাকে।
সাইফউদ্দিন বলেন, ভবিষ্যতে এসব দেশে আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়ার আশা করছেন তারা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ নিজেদের মাঠে ওয়ানডেতে এবং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে জয় পেয়েছে—এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও বেশি ম্যাচের আমন্ত্রণ পাওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ হলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য সেটি ভালো হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটাররাও বিশ্বের অন্যতম কঠিন কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
দলীয় পারফরম্যান্সেই এসেছে সাফল্য
সাইফউদ্দিন ঐতিহাসিক জয়ের কৃতিত্ব কোনো একক ক্রিকেটারকে দিতে চাননি। তাঁর মতে, ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগের ক্রিকেটার নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এমন বড় জয় এসেছে।
ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে বড় ভূমিকা রাখেন পেসার হাসান মাহমুদ। দুই ইনিংস মিলিয়ে তিনি নেন ৯ উইকেট। ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরিও বাংলাদেশের জয়ের ভিত শক্ত করে দেয়। মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
হাসান মাহমুদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন সাইফউদ্দিন। তাঁর মতে, ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে কাউন্টি ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা হাসানকে অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে ভালো করার জন্য প্রস্তুত করেছে।
পেস আক্রমণে প্রতিযোগিতা বাড়ছে
বাংলাদেশের পেস বোলিং বিভাগে প্রতিযোগিতা বাড়াকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সাইফউদ্দিন। তাঁর মতে, যে ক্রিকেটার ভালো পারফর্ম করবেন, তিনিই একাদশে সুযোগ পাওয়ার যোগ্য হবেন। ফলে জায়গা ধরে রাখার জন্য সবাইকে আরও পরিশ্রম করতে হবে।
সামনে সিরিজ জয়ের হাতছানি
ডারউইনে প্রথম টেস্ট জেতার পর বাংলাদেশের সামনে এখন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের সুযোগ। দুই ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ২২ আগস্ট ম্যাকেতে।
তবে সাইফউদ্দিন মনে করেন, সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি সহজ হবে না। প্রথম টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর অস্ট্রেলিয়া নিজেদের সেরা শক্তি নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। তারপরও বাংলাদেশ দল ভালো অবস্থায় রয়েছে এবং সিরিজ জয়ের সুযোগ কাজে লাগাতে আশাবাদী তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক প্রথম টেস্ট জয় তাই বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি ম্যাচের সাফল্য নয়; সাইফউদ্দিনের মতে, এই জয় ভবিষ্যতে আরও বড় আন্তর্জাতিক সুযোগের পথও খুলে দিতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন