ইউক্রেন যুদ্ধে সামরিক হতাহত ২০ লাখ ছাড়াল, রাশিয়ার নিহত প্রায় সাড়ে ৪ লাখ।

ইউক্রেন যুদ্ধ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
 রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চতুর্থ বছর পেরিয়ে আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উভয় পক্ষের সম্মিলিত সামরিক হতাহতের সংখ্যা ২০ লাখেরও বেশি হয়েছে। নিহত, আহত এবং নিখোঁজ সেনাদের হিসাব একত্রে ধরেই এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Center for Strategic and International Studies (CSIS)–এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে রাশিয়া। গবেষণায় বলা হয়েছে, রুশ বাহিনীর মোট সামরিক হতাহতের সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখে পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ লাখ থেকে সাড়ে ৪ লাখ সেনা নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহত ও নিখোঁজের সংখ্যাও কয়েক লাখ।

অন্যদিকে ইউক্রেনের মোট সামরিক হতাহতের সংখ্যা ৫ লাখ ২৫ হাজার থেকে ৬ লাখ ২৫ হাজারের মধ্যে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির নিহত সেনার সংখ্যা আনুমানিক ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার বলে গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সংঘটিত সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। যুদ্ধের শুরু থেকে দুই পক্ষই ব্যাপক প্রাণহানি ও সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘর্ষ উভয় দেশের সেনাবাহিনীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে যুদ্ধের ধরণ আরও বদলে গেছে। ড্রোন, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার সংঘাতকে আরও প্রাণঘাতী করে তুলেছে। বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির হার আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও গবেষণায় দাবি করা হয়েছে।

তবে রাশিয়া ও ইউক্রেন—কোনো দেশই তাদের প্রকৃত সামরিক হতাহতের সংখ্যা নিয়মিত প্রকাশ করে না। ফলে গবেষণায় ব্যবহৃত তথ্য বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, স্যাটেলাইট চিত্র, উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে প্রকৃত সংখ্যা কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে বলে গবেষকরা সতর্ক করেছেন।

এদিকে যুদ্ধের অবসানের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। পাল্টা জবাবে ইউক্রেনও রাশিয়ার সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। ফলে প্রতিদিনই নতুন করে প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘায়িত এই যুদ্ধ শুধু রাশিয়া ও ইউক্রেনের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার, খাদ্য নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। একাধিকবার শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধে কোনো কার্যকর সমাধান সামনে আসেনি।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন
প্রগতি বার্তা
ব্রেকিং নিউজ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
00:00:00

𝑷𝒓𝒐𝒈𝒂𝒕𝒊𝑩𝒂𝒓𝒕𝒂

প্রগতি বার্তা
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক