উৎপাদনের প্রথম বছরেই ২৩৩ কোটি টাকা মুনাফা ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানার।

ঘোড়াশাল পলাশ সার কারখানা
ডেস্ক রিপোর্ট 
 রাষ্ট্রায়ত্ত ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা (জিপিইউএফসি) উৎপাদনের প্রথম পূর্ণ অর্থবছরেই উল্লেখযোগ্য আর্থিক সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ২৩৩ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে, যা দেশের সার শিল্পে একটি ইতিবাচক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য অর্থবছরে কারখানাটির মোট আয় হয়েছে ২ হাজার ৬৩২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে দেশের কৃষকদের কাছে ইউরিয়া সার বিক্রি করে আয় হয়েছে ১ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা। এছাড়া সরকারের ভর্তুকি বাবদ প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে ৮৯৯ কোটি টাকা। উৎপাদন, পরিচালনা ও অন্যান্য ব্যয় পরিশোধের পর কারখানাটি ২৩৩ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় প্রায় ১১০ একর জমির ওপর নির্মিত এই আধুনিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া সার কারখানা হিসেবে পরিচিত। কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন, আর বছরে সর্বোচ্চ ৯ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই কারখানার বাণিজ্যিক উৎপাদন দেশের সার উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন শুরুর প্রথম বছরেই শতকোটি টাকার বেশি মুনাফা অর্জন কারখানাটির দক্ষ ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদন কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের প্রমাণ। তারা মনে করছেন, ভবিষ্যতে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন অব্যাহত থাকলে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব ও মুনাফা আরও বাড়বে এবং দেশের কৃষি খাতেও এর সুফল মিলবে।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন