আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়কে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও চিকিৎসা প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। কোটি মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা থাকায় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মূল্যায়নে বিপুল জনসমাগমের কারণে পদদলিত হওয়া, শ্বাসরোধ বা ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার মতো দুর্ঘটনায় ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ জন পর্যন্ত হতাহতের আশঙ্কা বিবেচনায় রেখে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে এটি কোনো নিশ্চিত প্রাণহানির তথ্য নয়; বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য করা একটি পূর্বাভাসভিত্তিক মূল্যায়ন।
এই আশঙ্কাকে সামনে রেখে রাজধানী তেহরানসহ অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি শত শত অ্যাম্বুলেন্স, মোবাইল মেডিকেল টিম, অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র, দমকল ও উদ্ধারকারী ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ সমন্বয় কেন্দ্রও চালু করা হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের ধারণা, খামেনির শেষ শ্রদ্ধা জানাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিদেশ থেকে লাখো মানুষ তেহরানে আসতে পারেন। ফলে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগমের একটি ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় জনসমাগমে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। অতীতের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে ইরান।
এদিকে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খামেনির শেষকৃত্যকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যে ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ হতাহতের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে, তা শুধুমাত্র সম্ভাব্য ঝুঁকির ভিত্তিতে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন