প্রগতি ডেস্ক: জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবাকে আরও দ্রুত, সহজ এবং জনবান্ধব করতে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জন্মতারিখ সংশোধন, ভোটার এলাকা পরিবর্তন, প্রবাসীদের এনআইডি নিবন্ধনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেবায় নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে জন্মতারিখ সংশোধনের বেশিরভাগ আবেদন কেন্দ্রীয়ভাবে নিষ্পত্তি হওয়ায় অনেক সময় বিলম্ব হয়। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব আবেদনকারীর জেএসসি, এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার সনদে জন্মতারিখের তথ্য রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তারাই সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করতে পারবেন। এতে আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি হবে এবং সাধারণ মানুষকে বারবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যেতে হবে না। এছাড়া ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদনও আরও সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই আবেদন নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হবে, যাতে নাগরিকদের হয়রানি কমে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও আসছে বড় সুখবর। বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের এনআইডি নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। এতে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে এবং দেশে না এসেও অনেক ক্ষেত্রে এনআইডি পাওয়ার কার্যক্রম সহজ হবে। এদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়নের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম যুক্ত করার বিষয়ে ভাবছে ইসি। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় পর এনআইডি নবায়নের সময় পরিবারের সদস্যদের তথ্য বা পারিবারিক তথ্যভাণ্ডার হালনাগাদ করার সুযোগ রাখা হতে পারে। এর মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য আরও নির্ভুল ও সমন্বিত হবে বলে মনে করছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের মতে, এসব সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হলো নাগরিকদের দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত সেবা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে এনআইডি ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ এবং কার্যকর করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।সংস্কারগুলো অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হলে জন্মতারিখ সংশোধন, ভোটার এলাকা পরিবর্তন এবং প্রবাসীদের এনআইডি নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা আগের তুলনায় অনেক কম সময়ে সম্পন্ন হবে বলে আশা করছে নির্বাচন কমিশন।

0 মন্তব্যসমূহ