আজ শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির জন্মবার্ষিকী। ১৯৯৩ সালের ৩০ জুন ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। লেখক, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত শরীফ ওসমান হাদি পরবর্তীতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তিনি তরুণদের মধ্যে অন্যতম আলোচিত কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন। আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞার দাবি, জুলাই শহীদদের ন্যায়বিচার এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তার সমর্থক ও সহযোদ্ধারা তাকে ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের একজন দৃঢ়চেতা যোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করেন।
রাজনীতির পাশাপাশি শরীফ ওসমান হাদি শিক্ষকতা এবং লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যয়নের পর তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সশস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করে। মৃত্যর মধ্যে দিয়েই আইকন হয়ে উঠেন প্রতিরোধের। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় ২০ লক্ষের অধিক লোকের জনসমাগম এ শহীদের জানাযা হয়, ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার স্মরণে দোয়া, আলোচনা সভা ও স্মরণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অসংখ্য অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষী তার জীবন, সংগ্রাম এবং আদর্শকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন