আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তামিলনাড়ুতে কৃষকদের জন্য বড় ধরনের ঋণমওকুফের ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়। সমবায় ব্যাংক থেকে নেওয়া ৭৫ হাজার রুপি পর্যন্ত কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে। আর ৭৫ হাজার রুপির বেশি কৃষিঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার রুপি পর্যন্ত মওকুফ পাবেন কৃষকেরা।
গত ১৬ জুন ২০২৬ মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সভাপতিত্বে রাজ্য সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। কৃষি, সমবায়, অর্থ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ওই বৈঠকে অংশ নেন।
সরকারের সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ মে থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সমবায় ব্যাংক থেকে নেওয়া কৃষিঋণ এই সুবিধার আওতায় থাকবে।
যেসব কৃষকের ঋণের পরিমাণ ৭৫ হাজার রুপি পর্যন্ত, তাদের পুরো ঋণই মওকুফ করা হবে। আর ৭৫ হাজার রুপির বেশি ঋণ থাকলে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার রুপি পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হবে। এই সুবিধা ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও অন্যান্য কৃষকদের জন্য প্রযোজ্য।
সরকারি হিসাবে, এই প্রকল্পে মোট ১৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫০৪ জন কৃষক উপকৃত হবেন। এজন্য রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ৫ হাজার ৯৩২ কোটি ২৩ লাখ রুপি।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে ৮ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৩ জন প্রান্তিক কৃষক, ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৮৩ জন ক্ষুদ্র কৃষক এবং ৯৩ হাজার ৫৪৮ জন অন্যান্য কৃষক সুবিধা পাবেন।
সরকারি হিসাবে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ঋণমওকুফের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৫৯৯ কোটি ৬৭ লাখ রুপি, ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য ১ হাজার ৯৯৫ কোটি ৪২ লাখ রুপি এবং অন্যান্য কৃষকদের জন্য ৩৩৭ কোটি ১৫ লাখ রুপি। সব মিলিয়ে মওকুফের সম্ভাব্য পরিমাণ ৫ হাজার ৯৩২ কোটি ২৩ লাখ রুপি।
এর আগে গত ২৫ মে ২০২৬ তামিলনাড়ু সরকার সমবায় ব্যাংক থেকে নেওয়া ৫০ হাজার রুপি পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণা দিয়েছিল। ওই প্রাথমিক সিদ্ধান্ত মূলত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছিল।
তবে বিভিন্ন কৃষক সংগঠন ও বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে এই সুবিধা আরও সম্প্রসারণের দাবি ওঠে। এরপর সরকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে। ১৫ জুন সচিবালয়ে এ বিষয়ে পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং পরদিন নতুন করে ঋণমওকুফের সীমা বাড়ানোর ঘোষণা আসে।
সংশোধিত সিদ্ধান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—৭৫ হাজার রুপির বেশি কৃষিঋণ নেওয়া কৃষকেরাও সুবিধা পাবেন। তাদের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার রুপি পর্যন্ত ঋণমওকুফ দেওয়া হবে।
অর্থাৎ, ৭৫ হাজার রুপি পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে পুরো ঋণ মওকুফ হলেও এর বেশি ঋণের ক্ষেত্রে পুরো ঋণ মওকুফ হবে না; সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার রুপি পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যাবে।
সরকার জানিয়েছে, এই ঋণমওকুফের ফলে কৃষকদের আর্থিক চাপ কমবে এবং আগামী চাষ মৌসুমে তারা নতুন করে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের সরকারি ঋণমওকুফ প্রকল্পসংক্রান্ত মডেল কার্যপদ্ধতি অনুযায়ী ঋণমওকুফের অর্থ ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
তামিলনাড়ু সরকারের এই সংশোধিত সিদ্ধান্তে রাজ্যের কৃষকদের জন্য প্রায় ৬ হাজার কোটি রুপির ঋণমওকুফ কার্যকর হবে। সরকারের দাবি, এতে বিপুলসংখ্যক কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং কৃষকদের পরবর্তী চাষ মৌসুমের আর্থিক প্রস্তুতিতে সহায়তা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন