হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি রাসেল মিয়া (২৭)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৭ আগস্ট) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে উপজেলার আইতন-সৈয়দাবাদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুনারুঘাট থানা পুলিশের একটি দল সৈয়দাবাদ এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় রাসেল মিয়াকে আটক করা হয়। পরে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাসেল মিয়াকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চুনারুঘাট থানায় আরও একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রাসেল মিয়ার গ্রেপ্তারের কয়েক দিন আগে, ১৪ আগস্ট চুনারুঘাট থানায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ৬৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করা হয়। মামলায় আরও অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাসেল মিয়ার নামও এজাহারে রয়েছে।
মামলার এজাহার-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৪ আগস্ট দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশী ইউনিয়নের পূর্ব পাকুরিয়া গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান মানিক সরকারের বাড়িতে কয়েকজন নেতাকর্মী দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে মানিক সরকারকে গ্রেপ্তার করে। অন্যরা সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ মামলার এজাহার ও পুলিশের বক্তব্যভিত্তিক; আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করা আইনগতভাবে সমীচীন নয়।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে সরকার ২৩ অক্টোবর ২০২৪ সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ১৮(১) ধারার ক্ষমতাবলে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং নিষিদ্ধ সত্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। সরকারি গেজেটেও এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে।
সরকারের প্রজ্ঞাপনে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, গণরুমকেন্দ্রিক নিপীড়ন, টেন্ডারবাজি, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়নসহ বিভিন্ন জননিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা ও সহিংসতার অভিযোগের কথাও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছিল।
চুনারুঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাসেল মিয়াকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় আরও মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন