মার্কিন সহায়তার ওপর নির্ভরশীল থাকতে চায় না ইসরায়েল, আত্মনির্ভরতার বার্তা নেতানিয়াহুর।

নেতানিয়াহু ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, ভবিষ্যতে দেশটি আর যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ও সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল থাকতে চায় না। তিনি বলেছেন, শক্তিশালী অর্থনীতি ও নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতার কারণে ইসরায়েল এখন এমন অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে ধীরে ধীরে মার্কিন সহায়তা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তাকে তিনি দীর্ঘমেয়াদে "কল্যাণভাতা (welfare)"-এর মতো দেখতে চান না। তার ভাষায়, ইসরায়েলের অর্থনীতি এখন আর ছোট নয়; দেশটি নিজস্ব সম্পদ দিয়েই প্রতিরক্ষা ব্যয় বহন করতে সক্ষম। তাই মার্কিন সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করতে চান তিনি। নেতানিয়াহু আরও বলেন, ইসরায়েলকে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তার মতে, নিজস্ব প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোই ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর পথ। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেন, ওয়াশিংটনের সমর্থনের জন্য ইসরায়েল কৃতজ্ঞ থাকবে, তবে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জনই এখন প্রধান লক্ষ্য।

দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় সামরিক সহযোগী। ২০১৬ সালের সমঝোতা অনুযায়ী ২০১৯ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে, যা মূলত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ে ব্যয় করা হয়।  বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং কৌশলগতও। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ইরানকে ঘিরে নীতিগত মতপার্থক্য এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে কিছু বিষয়ে টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিচ্ছে। তবে এই ঘোষণা অবিলম্বে মার্কিন সহায়তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমন অর্থ নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদে ধাপে ধাপে নির্ভরশীলতা কমিয়ে আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন