জাতিসংঘের ঈসরায়েল নিয়ে প্রতিবেদন


গাজায় শিশুদের উপর হামলা

 গাজায় শিশুদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ, ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ জাতিসংঘ তদন্ত দলের

গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা এবং বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের অভিযোগ তুলে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন।

সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জাতিসংঘের Independent International Commission of Inquiry on the Occupied Palestinian Territory, including East Jerusalem, and Israel জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে সংঘাত শুরুর পর ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী ও কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনি শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে। কমিশনের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড গাজায় নজিরবিহীন প্রাণহানি, আহত ও মানসিক ট্রমার সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় নিহতদের প্রায় ৩০ শতাংশই শিশু। কমিশনের মতে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভারী অস্ত্রের ব্যবহার, স্কুল, হাসপাতাল ও আশ্রয়কেন্দ্রে হামলা এবং শিশুদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ধ্বংস আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের শামিল।

এছাড়া, পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, বেআইনি আটক, যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে। কমিশন এসব ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধের আওতায় বিবেচনা করেছে।

তবে জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইল। দেশটির সরকার কমিশনের প্রতিবেদনকে "পক্ষপাতদুষ্ট" ও "মানহানিকর" বলে দাবি করেছে এবং তাদের বক্তব্য, হামাস বেসামরিক জনগণকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করায় জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়া, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক আদালত ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে চলমান তদন্ত ও মামলাগুলোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে কমিশনের প্রতিবেদন নিজেই কোনো আদালতের চূড়ান্ত রায় নয়; অভিযোগগুলোর বিচার ও আইনি দায় নির্ধারণ আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হবে।


0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন